সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছাত্রকে পিটিয়ে শিক্ষক বললেন ‘একটু বেশি হয়ে গেছে’

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম

স্কুলছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার টিফিন সময়ে স্কুলের ক্লাস রুমেই সহপাঠীদের সামনে পিটিয়ে তাকে আহত করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুল প্রধান ঘটনা স্বীকার করে বলেছেন এই ঘটনার জন্য আমি খুবই লজ্জিত।

নির্যাতিত ওই ছাত্রের নাম মো. সারোয়ার হাসান। সে শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশলাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির মেঘনা শাখার ছাত্র। হাসান নগরীর হড়গ্রাম কোর্ট কলেজ এলাকার বাসিন্দা সাইদ হাসানের ছেলে। এ নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রের বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ক্লাস শেষে বেলা ২টার দিকে বাড়ি ফিরে সারোয়ার। বাড়িতে ফেরার পর সন্ধ্যার দিকে তার হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আসে। তারপর তার বাবা-মা তার হাতের দিকে লক্ষ্য করে গভীর দাগ দেখতে পায়। এরপর তার কারণ জানতে চাইলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বলে , ‘অধ্যক্ষ গোলাম মাওলা স্যার আমাকে এভাবে মেরেছে’। এরপর তার শরীরের পোশাক খোলার পর সারা শরীরে অসংখ্য দাগ দেখতে পায়। জ্বরের মাত্রা বাড়তে থাকায় তাকে ওই দিনরাত ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে সে বর্তমানে বাড়িতে আছে।

সারোয়ার হোসেনের বাবা মো. সাইদ হাসান বলেন, দুষ্টুমি করায় এইটুকু ছেলেকে এভাবে পেটানো যায়! সে শারীরিক এবং মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অমানবিক এই নির্যাতনের বিচার চাইতে প্রথমে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় গেলে তারা রাজপাড়া থানায় যেতে বলে। রাজপাড়া থানায় রাত ২টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখেও অভিযোগ নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরামর্শে পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযুক্ত রাজশাহী শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম মাওলার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার জন্য আমি নিজেই লজ্জিত, ক্ষমা প্রার্থী। মুলত ওই সময় ওই বাচ্চার ক্লাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অনেকেই একসাথে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি মুলত তাকে শাসন করতে চেয়েছিলাম। তবে কেন জানি আমি বুঝতে পারিনি এটা একটু বেশি হয়ে গেছে। এজন্য আমি নিজে নিজেই খুবই লজ্জিত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত