শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শিশুরা চোখের প্রশান্তি সংসারের শোভা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ১২:৫২ এএম

মহান আল্লাহ মানবজাতিকে অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। এসব নিয়ামতের মধ্যে শিশু অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। শিশু মানবজাতির অতিব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুরা নিষ্পাপ। শিশুরা পবিত্রতার প্রতীক। শিশু হচ্ছে জীবনের অলংকার ও পরিতৃপ্তি। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘ধন-ঐশ্বর্য্য ও শিশুরা হচ্ছে পার্থিব জীবনের শোভা।’ শিশুর জন্মের খবরের চেয়ে আর কোনো বড় সুসংবাদ পৃথিবীতে নেই। বলা যায়, শিশুরাই একমাত্র শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘হে জাকারিয়া! আমি তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি এক পুত্র সন্তানের, যার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে আর কাউকে এ নামধারী করিনি।’ (সুরা মারইয়াম ০৭)

শিশুরা মনে প্রশান্তি আনে এবং চোখের শান্তি হয়ে পিতা-মাতার হৃদয়ে অবাধ বিচরণ করে। মনের অশান্তি,  দুঃখ ও অসুস্থতার মধ্যেও শিশুদের দেখলে তার মধ্যে বিরাজ করে এক রকম ভালোবাসা। পবিত্র কোরআনে শিশুদের চোখের প্রশান্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের আমাদের জন্য চোখ জুড়ানো করে দিন।’ (সুরা ফুরকান ৭৪)

শিশুরা পৃথিবীবাসীর জন্য এক বিশেষ রহমত। রাসুল (সা.) বলেছেন, কুঁজো, বৃদ্ধ, আল্লাহভীরু যুবক, দুগ্ধপায়ী শিশু এবং বিচরণশীল পশু না থাকলে তোমাদের ওপর অনবরত আজাব নেমে আসত। রাসুল (সা.) শিশুদের জান্নাতের বিহঙ্গ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সন্তান আল্লাহর দেওয়া এক উত্তম নিয়ামত। এ নিয়ামতের সুফল মৃত্যুর পরও ভোগ করা যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য তখনো তিন প্রকার আমলের ফল সে পেয়ে থাকে। এক. সদকায়ে জারিয়া। দুই. এমন ইলম ও বিদ্যা, পরবর্তী সময়ও যার সুফল ভোগ করা যায়। তিন. এমন সচ্চরিত্রবান সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে।

হাদিসে সন্তান কর্র্তৃক দোয়ার কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে পিতা-মাতার জন্য দোয়া করার ব্যাপারে সন্তানকে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কাজেই প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য হচ্ছে, পিতা-মাতার জন্য সবসময় আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকা। এতে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত