শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লকডাউনেও সমান আপ্যায়ন ব্যয়

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:২১ এএম

সেবার এপ্রিল ছিল নিষ্ঠুর। মে ছিল আরও এককাঠি ওপরে, ভয়ংকর। মহামারী ছড়িয়ে পড়ার শুরুর এ দুটি মাস চিরচেনা গ্রীষ্মের মতো ছিল না। নির্মল বাতাস ছিল। তাতে দোল খেয়েছে ঘরের খুশিয়াল পর্দা। ফরফর করেছে টেবিলে রাখা খোলা বইয়ের পাতা। তবে সেই হাওয়া করোনা আক্রান্তের আশঙ্কায় ঘরবন্দি থাকা মানুষের হৃদয়ে তেমন কোনো আলোড়ন তুলতে পারেনি। শহুরে মানুষের পা পড়েনি রাস্তায়। গাড়ির চাকা ঘোরেনি, কলকারখানা চলেনি। সেই সুযোগে রাস্তা বা সড়ক বিভাজকে জমে থাকা ধুলোবালিতে জন্মেছিল লতা, গুল্ম বা কচি নরম ঘাস।

ঝুঁকিতে ছিলেন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তারাও বাসায় অলস সময় পার করেছেন। তবে বাসায় থাকলেও তারা কাগজপত্রে ছিলেন অফিসে। স্বাভাবিক সময়ের মতো লকডাউনকালেও কর্মকর্তাদের কপাট আঁটা দরবারে ‘যারা’ হাজির হয়েছিলেন, তাদের চা-কফি-বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করতে হয়েছিল। কখনো কখনো আপ্যায়নের তালিকায় খাসির মাংস দিয়ে রান্না করা বিরিয়ানিও ছিল। মাস শেষে এসবের বিল বানিয়েছেন। বছর শেষে আঙুলের কড় গুনে মনগড়া হিসাব বিবরণী তৈরি করেছেন। দেশ রূপান্তরের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এসব তথ্য মিলেছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের হিসাব বিবরণীতেও এসব অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে।

জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বিল-ভাউচারের প্রায় সবই ভুয়া। কারণ মহামারীর সময় যারা এসব দপ্তরে বা কর্মকর্তাদের বাসায় যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের মুখে ছিল মাস্ক। অনেকের হাত ছিল গ্লাভসে ঢাকা। চা-কফি পান তো দূরের কথা, তারা মুখই খুলতেন না। কর্মকর্তাদের সতর্কতা ছিল আরও কঠিন। অতিনগণ্য সংখ্যক কর্মকর্তা যারা অফিসে গিয়েছিলেন, তারা তাদের কক্ষের চৌহদ্দির মধ্যে দর্শনার্থীদের ঢুকতে দিতেন না। শুধু বরাদ্দ টাকার খরচ দেখানোর জন্য আপ্যায়নের নামে এসব বিল-ভাউচার-ক্যাশ মেমো সংগ্রহ করা হয়েছে।

দিনটি ছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছিল তিনজন করোনা রোগী শনাক্তের খবর। সঙ্গে সঙ্গেই দেশ জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটির নামে লকডাউন শুরু হয়। এপ্রিলে ছিল লিমিটেড কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের (সামাজিক পর্যায়ে সীমিত হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া) আতঙ্ক। আর মে’তে ছিল ম্যাস ট্রান্সমিশনের (গণহারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া) ভয়াবহতা। সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, বাঁচার একটাই পথ তা হলো ঘরে থাকা। ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে টানা ৬৬ দিন বন্ধ ছিল সরকারি-বেসরকারি সব দপ্তর। করোনা সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে সাধারণ এ ছুটির মধ্যেই ডিসি ও ইউএনও অফিসগুলোতে আপ্যায়ন করা হয়েছে অতিথিদের!

২০২০ সালের ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও অসুস্থ কর্মচারীদের অফিস যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা ছিল। সাধারণ মানুষের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু তখন যে এত কড়াকড়ি ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই ওই বছরের জুন মাসের বিভিন্ন ডিসি ও ইউএনও অফিসের আপ্যায়নের ভাউচার দেখে। ২০২০ সালের ২০ জুন এক জেলার আপ্যায়নের ক্যাশ মেমোতে রয়েছে ৫ প্যাকেট বিস্কুট ও ১৩৭ প্যাকেট কফি। ১ হাজার ৮২০ টাকার ওই ক্যাশ মেমোতে ১০ টাকার রাজস্ব টিকিটও রয়েছে। একই বছরের ১০ জুনের অন্য আরেক জেলার ক্যাশ মেমো ২৫ প্যাকেট বিরিয়ানির। প্রতি প্যাকেট ১৫০ টাকার ওই ক্যাশ মেমোতেও রয়েছে রাজস্ব টিকিট। এ ধরনের আরও ক্যাশ মেমো বা বিল-ভাউচার রয়েছে দেশ রূপান্তরের হাতে। ক্যাশ মেমোর ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকরা জানান, এগুলো তাদেরই দেওয়া মেমো বা ভাউচার। প্রশাসনের লোকজন এগুলো তাদের দোকান থেকে সংগ্রহ করেন। যার বেশিরভাগই ফাঁকা ভাউচার থাকে। প্রশাসনের লোকজন আইটেম, পরিমাণ আর টাকার পরিমাণ বসিয়ে নেন। শুধু ডিসি, ইউএনও অফিস নয় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি সরকারি অফিসেই আপ্যায়ন খাত আছে, বরাদ্দ আছে এবং ব্যয় আছে। তারাও একই কায়দায় ব্যয় দেখায়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক দোকান মালিক দেশ রূপান্তরকে অনুরোধ করেন তাদের দোকানের নাম প্রকাশ না করার জন্য। এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন।

করোনাকালে আপ্যায়নের নামে ব্যয় প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এগুলো কীভাবে সম্ভব? যখন সবকিছু বন্ধ ছিল তখন কে সরকারি অফিসগুলোতে গিয়েছিলেন? কাদের এসব আপ্যায়ন করা হলো? এটা দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিত।’

২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়। সংক্রমণ হ্রাস-বৃদ্ধিতে সীমিত, কঠোর, সর্বাত্মকের মতো ভিন্ন নাম ও ধরনের লকডাউনের মুখোমুখি হতে হয় নগরবাসীকে। কমবেশি যার ধকল চলে ২০২১ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত। এদিন থেকে লকডাউন শিথিল করে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, ব্যাংক, বীমা, গণপরিবহন, শপিং মল, দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

করোনা মহামারী বিভীষিকা শুরুর নিষ্ঠুর এপ্রিল মাসে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আপ্যায়ন বিল ৬৩ হাজার ৪৭০ টাকা। মে মাসে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ হাজার ৩৪০ টাকায়। ওই অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতি মাসে আপ্যায়ন বিল ছিল গড়ে ৪৫ হাজার ৮৩২ টাকা।

২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতুল সরকার। আপ্যায়ন বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো সে বিষয়ে বলতে পারব না। তখনকার বিষয়। না দেখে, না জেনে এ বিষয়ে বলা যাবে না।’

করোনা থাবা বসিয়েছিল উৎসব পার্বণেও। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা থাকলেও তা শিকেয় তুলে ঈদে বাড়ি গিয়েছিলেন নগরবাসী। করোনাকালে প্রথম ঈদ এসেছিল ২০২০ সালের ২৫ মে। ঈদের নামাজের পর কোলাকুলির চিরচেনা দৃশ্য সেবার দেখা যায়নি। দূর থেকে সালাম বিনিময় হলেও মানুষের মুখে হাসি ছিল না। চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তার স্পষ্ট ছাপ। ঢাকা থেকে যারা গ্রামে গিয়েছিলেন তারা ছিলেন ‘নিরাপদে’ থাকা গ্রামবাসীদের আতঙ্কের কারণ। নগর থেকে গ্রাম সর্বত্র সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্যে কে বা কারা সেবা নিতে সরকারি অফিসে গিয়েছিলেন? আর তাদের আবার আপ্যায়নও করতে হয়েছে এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ২২০ টাকা। মে মাসে তা কমিয়ে করা হয় ৫ হাজার ৫৬৫ টাকা। ধারাবাহিকভাবে জুনে ২০ হাজার ৭৪৯, জুলাইয়ে ৪৩ হাজার ৯১৬, আগস্টে ২৫ হাজার ৯৪৭, সেপ্টেম্বরে ৪৫ হাজার ৩৩১, অক্টোবরে ৪৩ হাজার ৮১, নভেম্বরে ৪১ হাজার ৬৪ ও ডিসেম্বর মাসে আপ্যায়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৩১ হাজার ১৯৮ টাকা।

করোনার থাবায় বাঙালির জীবনযাপনের চিরচেনা ছবিটা বদলে গিয়েছিল। অফিসে কাজ নেই, স্কুলে পাঠ নেই, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা নেই, আড্ডায় বাইরে যাওয়া নেই এত নেই-এর চাপে ঘরে ঘরে পরিবারের সদস্যদের মানসিক সমস্যা বেড়ে যায়। ঘরে বসে যে টিভির রিমোট টিপে খেলা দেখা যাবে তারও সুযোগ ছিল না। কারণ খেলাও মাঠ ছেড়েছিল। এত অস্বাভাবিক ও কঠোর পরিস্থিতিতেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যেন আপ্যায়নের নহর বয়ে গেছে। বাদ যায়নি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ও। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সবকটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আপ্যায়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার টাকায়।

দেশের ৪৯২টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের আপ্যায়ন ব্যয় ছিল ২ কোটি ৮ লাখ ৪ হাজার টাকা। ২০২০-২১ সালে তা দাঁড়ায় ২ কোটি ২৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ টাকায়। পরের বছর ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৩০০ টাকা।

সাধারণ ছুটির মধ্যে জরুরি সেবা, পণ্য পরিবহন, চিকিৎসা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ খাত ছাড়া গণপরিবহনও বন্ধ ছিল। এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করে প্রশাসন। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইরে বের হলেই আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফাঁকে ফাঁকে সরকারি দপ্তর খুললেও অফিসের শতভাগ জনবল মাস্ক পরিহিত ছিলেন। কেউ কেউ পিপিই পরেও অফিসে হাজির হতেন। এমন পরিস্থিতিতেও মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে আপ্যায়ন খাতে বরাদ্দের পুরোটাই অর্থাৎ ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা চা-নাশতায় ব্যয় হয়। এর পরের অর্থবছরে আপ্যায়ন খাতে ব্যয় করে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থাৎ করোনাকালে আপ্যায়নের বরাদ্দ থেকে ৫ টাকা বাঁচিয়েছে। দপ্তরটিতে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে ব্যয় করা হয় ৬৪ হাজার ৯৯৫ টাকা। পাশের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বরাদ্দ ছিল ৪৫ হাজার টাকা। পরের বছর তা ৬৫ হাজার টাকায় উন্নীত করে পুরোটাই ব্যয় করা হয়। জেলাটির মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪০ হাজার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৫ হাজার টাকার পুরোটাই ব্যয়ের খাতায় তোলে। একই অবস্থা জেলার শালিখা উপজেলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে আপ্যায়ন খাতে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও তারা ৩০ টাকা বাঁচিয়েছে। এই ৩০ টাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সমর্পণ করা হয়েছে বলে শালিখা উপজেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মহামারীকালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ঘোর সংকট ছিল। যখন চিকিৎসক আর অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হচ্ছিলেন তখন সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। হাসপাতালে মহামারী মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর, মাস্ক, গ্লাভস বা গাউন সরবরাহ করা যায়নি। ওষুধের জোগানেও পড়েছিল টান।

করোনা মহামারী মানুষকে কিছু শব্দে অভ্যস্ত করে দিয়েছিল। হাতের কবজিতে অক্সিমিটারের ডিজিট যখন নিচের দিকে নামত তখন সুস্থ মানুষও চাপে পড়ে যায়। হোম অফিসের নামে বাড়িকেই অফিস বানানো হয়। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছিল লেখাপড়া। যেন সাদা পিপিইর আড়ালে মৃত্যুদূত হাজির হয়েছিল। অনভ্যস্ততায় অভ্যস্ত হতে হয়েছিল কোয়ারেন্টাইনে বা সংগনিরোধে। দিনমান এসব শব্দ আওড়াতে আওড়াতে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছিল নতুন নতুন নাম। তছনছ হয়ে পড়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন। গ্রাম থেকে শহরের ব্যস্ততম জায়গাগুলোতেও পিনপতন নীরবতা নামে। সবকিছুর মধ্যে মানুষের শুধু করণীয় ছিল বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। কিন্তু এ ঘোর বিপদের দিনেও কিছু মানুষ ভুয়া ক্যাশ মেমো, বিল, ভাউচার তৈরিতে ছিলেন ব্যস্ত। তাদের ধারণা কেউ দেখেনি, কেউ বোঝেনি। যেন হরিণের সেই গল্পের মতো। বাঘের গর্জন শুনলেই হরিণ চোখ বন্ধ করে ফেলে। হরিণের ধারণা যেহেতু সে নিজে কিছু দেখতে পাচ্ছে না, বাঘও তাকে দেখতে পাবে না। শ্বাস বন্ধের কাল করোনাকালে স্তব্ধ ছিল দুনিয়া। ঘরে থাকা দূরে থাকার মধ্যে ছিল কত রকমের কাণ্ড। সময়টা যেন ওই হরিণের মতো, ভয়ে চোখ বন্ধ কিন্তু ...।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত