মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুলিশ সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন কেন?

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম

ফেসবুকে ‘দ্য এন্ড’ লিখে পোস্ট করে ১৪০টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মিয়া। এই পোস্ট দেখে তাঁর ছোটভাই ৯৯৯-এ কল দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার (১০ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। 

গত ৮ জুন রাতে ঢাকার গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে দায়িত্ব পালন কালে তুচ্ছ ঘটনায় সহকর্মীকে গুলি করেন কনস্টেবল কাওসার আহমেদ। এতে নিহত মনিরুলের শরীরে ৬টি গুলি ও ঘটনাস্থলে ৩৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ হন দূতাবাসের এক গাড়ি চালক। এ ঘটনার পর কাওসার আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন কাওসার। 

২০২১ সালের ২১ জুলাই মেহেরপুরের মুজিবনগরে ডিউটিরত অবস্থায় নিজের রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন সাইফুল ইসলাম। তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন জানিয়েছিলেন, কর্মব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় ও সাক্ষাত না হওয়ায় তার হতাশা ছিল, এ ছাড়াও নানাবিধ জটিলতায় ছিলেন তিনি।

শুধু রুবেল মিয়া, কাউসার আলী বা সাইফুল ইসলামই নয়, প্রায়শই গণমাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার খবর আসছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে পুলিশ সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন কেন?

এ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে হতাশার কিছু কারণ জানা গেছে। তাঁরা বলছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পদন্নোতি না পাওয়া, ছুটি না পাওয়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাজে ব্যবহার, পারিবারিক ঝামেলা, পরিবার থেকে দূরে থাকা, কাজের ধরণ-সহ নানা কারণে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। 

নাম প্রকাশ না করে এক পুলিশ সদস্য বলেন, টানা ৬ মাস ধরে ডিউটি করছি। এক ভেতর কোন ছুটি পাইনি; কোন বিশ্রাম নেই। রোজার ঈদও পরিবারের সঙ্গে করতে পারিনি। কুরবানির ঈদে ছুটির আবেদন দিয়েছি তবে এখনো ছুটি পাবো কিনা তা নিশ্চিত না। 

তিনি আরও বলেন, মানুষকে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়। এক পক্ষের সমস্যা সমাধান করতে গেলে আরেক পক্ষ অখুশি হয়। দুইজনকে তো আর খুশি করা সম্ভব নয়। ফলে কাজের ক্ষেত্রে একটা মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। 

এ বিষয়ে আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, মানসিক প্রেশার পরিবারের থেকে বেশি আসে। ছোট চাকরি, বেতন কম; কিন্তু বেশিরভাগ পরিবারের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে একটা চাপ তৈরি হয়। এই চাপ মোকাবেলা করতে পারে না অনেকে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের ডিউটির কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। একটানা দীর্ঘ সময় ডিউটি করতে হয়; রাতে ঘুমানোর সুযোগ হয় না। ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। এই সময়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বললে একটা ঝামেলা তৈরি হয়। এছাড়া পদন্নোতি পেতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘদিন। উপরন্তু দীর্ঘ সময় ডিউটি করে পদোন্নতির জন্য পড়ার সময় বের করা কঠিন। ফলে একটা বড় অংশ পদোন্নতি না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত থাকে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মজীবনে পুলিশ সদস্যদের বিপদ, চাপসহ নানামুখী ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়। পরিবার থেকে দূরে থেকে সমাজের অবক্ষয়-অস্থিরতার ঢেউ সামলাতে হয় তাদের। ফলে তাদের একটি মানসিক চাপ ও হতাশার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত