শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা

পুলিশে বিভাজনের চেষ্টা, লক্ষ্যবস্তু দেশ প্রেমিক কর্মকর্তারা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। আর এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের অভ্যন্তরে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে‌। এছাড়া যাদেরকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তাড়া হলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান, ফেনী জেলার এসপি প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, ডিসি ডিবি উত্তরা মোহাম্মদ ইলিয়াস কবির, উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগসহ আরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই বিএনপির পরিবারের সদস্য। স্বৈরাচার আওয়ামী শাসনামলে কর্মস্থলে ছিলেন বঞ্চিত। বর্তমান সরকার তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব দেয়ায় দেশের বাইরে থেকে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময় দায়িত্ব নেয়ার পর উত্তরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করেন উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগের পরিবারকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়। মূলত তার পরিবার নিরীহ শান্তি প্রিয় এবং বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। তার আপন চাচাতো তিন ভাই স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলে বিনা অপরাধে দীর্ঘ সময় ধরে জেল খাটে। সেখানে আরও দাবি করা হয়, মির্জা তারেক আহমেদ বেগ আওয়ামী লীগের সময় সুবিধা ভোগি। মূলত তিনি স্বৈরাচার শাসন আমলে ছিলেন বঞ্চিত। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতে দেয়া, তৎকালীন সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনাস্থা ভাজন হ‌ওয়ায় অধিকাংশ সময় কাটাতে হয় দেশের বাহিরে।

নিউজে ব্যবহার করা ছবিটির প্রকৃত তারিখ ৫ আগস্ট, ২০২৪ সালের। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের সেই দিনে তিনি সাধারণ আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যারা পুলিশ প্রশাসনের ভেতর ফাটল ধরাতে চায় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায়, তারাই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র এবং সচেতন মহল জোর দিয়ে জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা নস্যাৎ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।

এদিকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়: দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো প্রকার রাজনৈতিক চক্রান্ত বা বিভাজনের ফাঁদে পা দেবে না। পুলিশ বাহিনীকে সাধারণ জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাতে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাগাতার অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ একটি পেশাদার এবং সুশৃঙ্খল বাহিনী। দেশ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্য সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।

এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যেকোনো তথ্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে সাধারণ জনগণকে তা যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে, এই গুজব ও অপপ্রচারের পেছনে থাকা চক্রটিকে আইনি প্রক্রিয়ায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত