সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে ২০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
৩০ জুনের মধ্যে পুনর্বহালকৃত কোটা বাতিল করা না হলে পহেলা জুলাই থেকে চবিসহ দেশব্যাপী সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের 'কোটা প্রথা বাতিল চাই', বৈষম্য মানি না, মানবো না', 'কোটার বিরুদ্ধে লড়াই হবে লড়াই চাই' 'কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা চাকরি পাক' ইত্যাদি শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
চবির মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের ২ শতাংশ মানুষের জন্য ৫৬ শতাংশ কোটা বরাদ্দ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মেধার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের তালহা মাহমুদ রাফি বলেন, আমার নানাও মুক্তিযোদ্ধা। আমার পূর্ব পুরুষেরা দেশের অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাদের উত্তরসূরী হয়ে যদি আমরা এইরকম বিরাট বৈষম্য তৈরি করি সেটা আমাদের মানায় না। আমি চাই এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক, প্রতিবাদ হোক। আমি এই বৈষম্যমূলক কোটার বাতিল চাই।
দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেল আহমেদ বলেন, বৈষম্যমূলক এই রায় যদি আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে হাইকোর্ট পুনর্বিবেচনা না করেন আমরা পহেলা জুলাই থেকে কঠোর আন্দোলনে যাবো। আমি সারাদেশের ছাত্র সমাজকে আহ্বান জানাবো তারা যাতে এই বৈষম্যমূলক রায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। সাম্য ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাই এগিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ই জুন সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
