সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বোরকা পরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে মেশে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা!

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ১১:০৭ পিএম

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাসের হাতে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিনব পরিকল্পনা নিয়েছিল ইসরায়েল। জিম্মিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে গোয়েন্দা পাঠানো হয় নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে। সেখানে বোরকাসহ হিজাব-নিকাব পরে ফিলিস্তিনি মুসলিম সেজে বাড়তি টাকায় বাসা ভাড়া নেয় তারা।

এছাড়াও নিজেদের ‘বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি’ হিসেবে তুলে ধরে গোয়েন্দারা। কথাও বলে আরবিতে। অভিযানের আগের এমনই এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য জিউস ক্রনিকল। 

গত বৃহস্পতিবার ‘ইসরায়েলের জিম্মি উদ্ধারের পেছনের গল্প’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ জুন এক তরুণীসহ চার জিম্মি উদ্ধারে যাওয়ার আগে ১৯ দিন নিবিড়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। এজন্যই সাধারণ মানুষের বেশে নারী ও পুরুষ গোয়েন্দা নিযুক্ত করা হয়।

গত ১২ মে নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে চার জিম্মি থাকার তথ্য পায় গোয়েন্দারা। এরপর অভিযানের পরিকল্পনা যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় তোলে আইডিএফ। শুরু হয় ছদ্মবেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ। একইসঙ্গে ছিল ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহের কাজ। এরপর তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়।

এর মধ্যেই ইসরায়েলের বিশেষ ইয়ামাম পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ২৮ কমান্ডো জিম্মি উদ্ধারে প্রশিক্ষণ নেয়। তবে ৬ জুন সেখানে অভিযান চালানোর আগেই গুপ্তচরদের এলাকাটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই দিন বেলা ১১টায় শুরু হয় অভিযান।

প্রথমে এক তরুণীকে উদ্ধার করে তাকে হেলিকপ্টারে ইসরায়েলে পাঠানো হয়। সেখানে মারা যায় হামাসের একজন। এরপর অন্য একটি ভবনে বাকি তিনজনকে উদ্ধারে গেলে চরম হামলার মুখে পড়ে ইসরায়েলি কমান্ডোরা। সেখানে প্রায় ৩০ জন হামাস যোদ্ধা পাল্টা হামলা চালায়। এই অভিযান ঘিরে মৃত্যু হয় নুসেইরাত ক্যাম্পের নিরীহ প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনির।

এদিকে এখন পর্যন্ত কতজন ইসরায়েলি জিম্মি জীবিত আছে, তা কেউ জানে না বলে জানিয়েছেন হামাসের শীর্ষ নেতা ওসমান হামাদান। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জিম্মিদের মুক্ত করার বিষয়ে কোনো আলোচনার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত