রায়বেরিলির সঙ্গে গান্ধী পরিবারের সম্পর্ক কি

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:৩৪ পিএম

ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি ও কেরালার ওয়ানাড় দুই জায়গা থেকেই বিপুল ভোটে জিতেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, দুইটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি ছেড়ে দিতে হচ্ছে রাহুলকে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি ওয়ানাড় ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এর অর্থ হলো রায়বরেলির আসনটি নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফলে শেষমেশ ওয়ানাডে উপনির্বাচন করছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মা সোনিয়া বা ভাই রাহুলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে কাজে বহু বছর ধরে যুক্ত প্রিয়াঙ্কা। বছর পাঁচেক আগে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন তিনি।

রায়বেরিলির সঙ্গে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের সম্পর্ক বহু পুরনো। রাহুলের দাদু ফিরোজ গান্ধী এই আসন থেকে ১৯৫২ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে রায়বেরিলি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েই সংসদে পৌঁছান  ইন্দিরা গান্ধী। এরপর ১৯৭১ সালেও এই আসন থেকে লড়াই করেই ভোটে জিতেছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালে আদালতের নির্দেশে ইন্দিরার নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার ২১ মাস পর আয়োজিত ভোটে হারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। এরপর ১৯৮০ সালে রায়বেরিলি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মেদক (এখন তেলেঙ্গানার অন্তর্গত) আসন থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। জিতেছিলেন দুইটি আসনেই।

ভোটের দৌড়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, লড়বেন রাহুলের জেতা আসন ওয়েনাড় থেকে

সেই সময় রায়বেরিলি আসনটি ছেড়ে দেন ইন্দিরা। কংগ্রেসের অরুণ নেহেরু ওই আসন থেকে উপনির্বাচনের প্রার্থী হন এবং ভোটে জেতেন। ১৯৮৪ সালেও ওই আসন কংগ্রেসের দখলে ছিল। সে বছর রায়বেরিলি থেকে ভোটে জয় লাভ করেছিলেন অরুণ নেহেরু। ১৯৮৯ এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস নেত্রী শীলা কৌলের ঝুলিতে আসে রায়বেরিলির আসন।

এরপর অবশ্য ছন্দপতন হয়। ১৯৯৬ এবং ১৯৯৮ সালের ভোটে ‘কংগ্রেসের দুর্ঘ’ পরিচিত এই আসনে পদ্ম ফোটান বিজেপির অশোক সিং। ১৯৯৯ সালে অবশ্য আবারও কংগ্রেসের ঝুলিতে ফিরে আসে রায়বেরিলির আসন। কংগ্রেস নেতা সতীশ শর্মা এই আসনে জয়ী হন। আর ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২০ বছর এই কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন সোনিয়া।

চলতি বছরে লোকসভায় রায়বেরিলি আসন থেকে রাহুলকে কংগ্রেস পার্টি প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। তিনি প্রায় তিন লাখ ৯০ হাজার ৩০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত