সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ দিনে ধরা পড়ল ৬ রাসেলস ভাইপার, আতঙ্ক সর্বত্র 

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০৩:৫৪ পিএম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫ দিনের ব্যবধানে ৬টি রাসেলস ভাইপার ধরা পড়েছে। উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন, গাওদিয়া, হলদিয়া, কুমারভোগ ও মেদেনীমন্ডল ইউনিয়নের পৃথক পৃথক গ্রামে এ রাসেলস ভাইপার ধরে পড়ে।

বিষধর এ সাপের ভয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপজেলা জুড়ে। একইসঙ্গে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে রাসেলস ভাইপার। সবার মুখে মুখেই এখন কেবল রাসেলস ভাইপার। সর্বত্র আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বিষধর এ সাপ। 

এদিকে, আজ শনিবার রাসেলস ভাইপার থেকে সতর্ক থাকতে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাসেলস ভাইপার সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন নিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে একটি রাসেলস ভাইপার ধরা পড়ে। আগেরদিন শুক্রবার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়নের মেদেনীমন্ডল ও শিমুলিয়া ফেরীঘাট এলাকায় ২ টি রাসেলস ভাইপার ধরেন স্থানীয়রা।

এছাড়া বৃহস্পতিবার (২০ জুন) গাওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি গ্রামে, বুধবার (১৯ জুন) লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় বাজার এলাকায় এবং মঙ্গলবার (১৮ জুন) কুমারভোগ ইউনিয়নের চরে ১ টি করে রাসেলস ভাইপার ধরে পড়ে। 

অন্যদিকে, গেলো বুধবার লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় বাজারে এলাকার পদ্মার তীরে রাসেলস ভাইপার ধরেন স্থানীয় সাপুড়ে তারু বেঁদে। তিনি জানান, কয়েক দিনে ধরা পড়া রাসেলস ভাইপারগুলো স্থানীয়রা মেরে ফেলেছেন। তবে তিনি যে রাসেলস ভাইপার ধরেছেন সেটি এখনও তার কাছে রয়েছে জীবিত অবস্থায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ওই রাসেলস ভাইপার ধরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। 

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তপন বলেন, পদ্মা তীরের গ্রামগুলোতে রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ধরাও পড়েছে। এছাড়া গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

এছাড়া যেকোনো প্রজাতির সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম। তিনি বলেন, রাসেলস ভাইপার কামড়ালে সাথে সাথে মৃত্যু হয়- এ তথ্য সত্য নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করতে পারলে বেশির ভাগ রোগীই বেঁচে যান। 

তিনি আরও বলেন, জেলা শহরের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম তথা বিষ প্রতিষেধক সরবরাহ রয়েছে। কাজেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

রাসেলস ভাইপার প্রসঙ্গে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, বিষধর এ সাপ থেকে সতর্ক থাকার জন্যপদ্মা তীরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতে মাইকিং করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাইকিং করে সেখানকার বাড়ি-ঘর ও বসতভিটার আশপাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিরস্কার করতে বলা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় বেশ কয়েকটি রাসেলস ভাইপার পাওয়ার খবর পেয়েছি। ইতোমধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশসহ রাস্তাঘাটের ঝোপঝাড় কেটে ফেলে পরিস্কার করা হচ্ছে।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত