সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪, ০৬:২০ পিএম

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে এটি প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পূর্বঘোষিত তিনদিনের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) প্রথমদিন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। 

আগামীকাল বুধবার এবং পরদিন বৃহস্পতিবারও এই অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। পাশাপাশি ফেডারেশনের কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের নিচে দুপুর ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

তাদের বাকি দাবিগুলো হলো- প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন করা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের প্লাটফর্ম জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেকোনো জাতীয় বেতনস্কেল কাঠামো বৃদ্ধির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সেখান থেকে দূরে রাখেন। আপনারা জানেন প্রথম গ্রেডে আসার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। উনার কারণে আমরা কয়েকটা জিনিস হারিয়েছি কারণ উনি সরকারদলীয় সমার্থক থাকার কারণে অপ্রিয় সত্য কথাগুলো বলতে পারে নাই, মুখ তার বন্ধ ছিলো। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষক সমাজ। সরকারি পেনশন স্কিমের জন্য প্রথমে প্রস্তাবনা করা হয়েছিলো সবাইকে একটা পেনশন স্কিমের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কিন্তু এটা আদোতে একটা ইনস্যুরেন্সের মতো। সরকারের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই যার কারণে বলা হয়েছে ২৫ সাল থেকে যারা যোগদান করবে তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা অনেকে মনে করছি আমরা যারা সিনিয়র আছি তারা মনে হয় বেঁচে গেছি, কিন্তু কয়দিন পরে সরকার যদি অর্থ সংকলন করতে না পারে তখন তো আপনার বেতনের জন্য আন্দোলন করতে হবে। আমরা মনে করি সার্বজনীন পেনশন স্কিমের নামে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে যে ধরনের কূটকৌশল করছেন তার আমরা প্রতিবাদ জানাই। এই পেনশন স্কিমের প্রতিবাদে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে, কে আওয়ামী লীগ কে বিএনপি, কে জামায়াত ইসলাম সেগুলো দেখলে চলেবে না।’

সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘গত দুইমাস যাবত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দাবি আদায় না হওয়ায় আমরা অর্ধদিবস কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেছি। দাবি আদায় না হলে আমরা ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাব। কারণ এই প্রত্যয় স্কিম বৈষম্যমূলক। আমরা তো নতুন কিছু চাই না, আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই থাকতে চাই। আর সুপারগ্রেড তো অনেক আগের দাবি। যদি এই স্কিম সার্বজনীনই হয়ে থাকে তবে কেন শুধু শিক্ষকদেরকে আলাদা করা হলো। 
সরকারকে বুঝতে হবে শিক্ষকদের পিঠ যদি দেয়ালে ঠেকে যায় তাহলে তারা সবার্ত্মক আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। সরকার যত দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নিবে ততো তাড়াতাড়ি আমরা ক্লাসে ফিরে যাব। সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলাকালে শিক্ষকরা হলের প্রভোস্ট, লাইব্রেরি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস কোথাও দায়িত্ব পালন করবেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত