চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন জাবি শিক্ষার্থীরা, এক দফা ঘোষণা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩১ পিএম

সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কারের এক দফা দাবির ঘোষণা দিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৮ জুলাই) বেলা পৌনে তিনটার দিকে ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ৩টা ৩ মিনিট থেকে সড়ক অবরোধ করা শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধের পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে যান চলাচলের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করে দেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ,’ ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’'- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন৷

২০১৮ সালের পরিপত্র বহালসহ আজকের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বাকি দাবিগুলো ছিল- ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘যতদিন কোটা সংস্কার করা হবে ততদিন বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অচল অবস্থায় থাকবে। দরকার হলে আমরা বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি জেলাগুলোও অচল করে দেব।  সরকার এতদিনেও আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করতে পারেনি। আমরা আশা করছি তারা তাদের কোটা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আমাদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন অযৌক্তিক। কিন্তু সত্য কথা হলো তারা যে কোটা প্রথা চালু রেখেছে এটাই অযোক্তিক। প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আন্দোলন ছেড়ে পড়াশোনা করতে বলেছে। আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি বিসিএস পরীক্ষার পশ্ন ফাঁস হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এজন্য আমরা দাঁড়িয়েছি সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত