সিলেটে মেস থেকে রাতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে চাকরিপ্রার্থীসহ তিন শিক্ষার্থীকে তুলে আনার পর তাদের ছাড়িয়ে এনেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে থানা থেকে মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনা হয়।
এর আগে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নিহারীপাড়া এলাকার মেস থেকে তাদেরকে তুলে আনে পুলিশ। আটক তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মনির হোসেন এবং পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. সোহাগ রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আনাস মিয়া। তারা সকলেই নিহারীপাড়ায় ব্লক সি-৭১ নম্বর বাসায় মেসে ভাড়া করে থাকেন৷
তাদেরকে আটকের খবরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষকরা কোতোয়ালি মডেল থানায় যান। সেখানে ওসির সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আলোচনা করে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনেন। পাঁচ সদস্যের শিক্ষকদলের মধ্যে ছিলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, খাদ্যপ্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাহ আতিকুল হক ও পরিসংখ্যান বিভাগের খালিদুর রহমান।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন বলেন, এগারোটায় আমরা খবর পাই যে সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়েছে৷ তারা আইনগত প্রক্রিয়ায় দিকে যাচ্ছিলেন৷ পরে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে আমাদের জিম্মায় শিক্ষার্থীদেরকে ছাড়তে রাজি হন৷ শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদে আছেন৷
এ বিষয়ে মহানগরের কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, রাতে আমাদের কাছে খবর আসে যে ওই মেসে মামলার আসামি কেউ অবস্থান করছেন। রাতে আমরা মেসে যাই। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন দরজা খুলে দিলেও একটি রুমের দরজায় বাহির থেকে তালা দিয়ে ভেতরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিল। আমাদের সন্দেহ হলে বাহিরের থাকা শিক্ষার্থীদের রুম খুলে দিতে বলি। কিন্ত দেড় ঘণ্টা পর খুললে সন্দেহজনকভাবে তিনজনকে থানায় নিয়ে আসি। পরে শিক্ষকরা আসলে তাদেরকে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়৷
মেসে থাকা এইচএসসি পরীক্ষার্থী মামুনুর রশীদ বলেন, রাত সাড়ে তিনটায় পুলিশের ওয়াকিটকির শব্দে ঘুম ভাঙে। পুলিশ কক্ষে সবকিছু তল্লাশি করে। বাড়িঘর কোথায়, কেউ কোনো দল করে কি না সবাইকে তা জিজ্ঞেস করে। তারপর সবার মোবাইলের সবকিছু চেক করে।পরে তিনজনকে তুলে নিয়ে গেছে। আমাকে নিতে চাইছিল, পরে আমি পরীক্ষার্থী বলায় ছেড়ে দিয়েছে।
