শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন দুই দিন পার হয়েও গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন তিনি এবং তার বোন শেখ রেহানা। চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় হবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পরিষ্কারভাবেই জানিয়েছেন যে শেখ হাসিনার জন্য ভারত শেষ গন্তব্য নয়।
ভারত বলছে, খুব কম সময়ের নোটিশে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’ ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, তার মা কোথাও রাজনৈতিক আশ্রয় চাননি।
তাহলে শেখ হাসিনার গন্তব্য কোথায় হবে? ব্রিটেন, আমেরিকা কিংবা অন্য কোন পশ্চিমা দেশ কি তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেবে?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব কিছুই নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে তার ওপর।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর গবেষক টম কিন বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া শেখ হাসিনার জন্য খুব ‘কঠিন’ হবে। এমনকি সম্ভব নাও হতে পারে।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনিস্টিটিউট-এর পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, পশ্চিমা কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া শেখ হাসিনার জন্য খুব কঠিন হবে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে, বিশেষ করে গত কয়েকদিনে যা ঘটেছে, সেটা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো খুবই মর্মাহত হয়েছে। গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনা শেষ মুহূর্তেও পুলিশ এবং সেনা বাহিনীকে আরো বেশি বল প্রয়োগ করতে বলেছিলেন। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি।
মি. কুগেলম্যান বলছেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যে প্রবল শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং শেখ হাসিনা সরকারের যে দমন-পীড়ন ছিল সেটি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর খুবই আপত্তি ছিল।
তিনি বলছেন, তার (শেখ হাসিনার) পরিবারের অনেক সদস্য পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাস করে, তাদের জন্য এটি চিন্তার বিষয় হবে। তবে শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘণ নিয়ে যেসব দেশ মাথা ঘামায় না, তারা হয়তো তাকে আশ্রয় দিতে পারে।‘
এটা পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে কোন দেশ হতে পারে, কিংবা গাল্ফ দেশগুলোতে হতে পারে," বলেন মি. কুগেলম্যান।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আরো বেশি মানুষ হত্যা করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা, মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর টম কিন।
তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো তদন্ত করে এবং কোন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেটি ভিন্ন পরিস্থিতির তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যেও নিরাপদে থাকতে পারবেন না।
অতীতে আমেরিকায় কিংবা ইউরোপে অনেক পতিত স্বৈরাচারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেবার নজির রয়েছে। আবার কোন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ক্ষমতাচ্যুত একনায়কদের আশ্রয় দিয়েছে সৌদি আরব।
তবে বাংলাদেশে যা হয়েছে সেটি বিশ্বের সবাই দেখেছে। প্রচুর ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও বিশ-ত্রিশ বছর আগে বিষয়গুলো এতো দ্রুত ছড়াতো না।
এই কয়েকদিনেই যে পরিমাণ রক্তপাত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে সেটি বেশ নেতিবাচক বলছেন টম কিন।
এছাড়া ইউরোপ এবং আমেরিকায় বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি সম্প্রতি ছাত্র বিক্ষোভে তাদের সমর্থন জানানোর পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতেও সরব হয়েছেন। এ কারণেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দেবার বিষয়ে চিন্তা করবে পশ্চিমা সরকারগুলো, বলছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
'আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাতে গড়াবে তা আমরা ভাবিনি'
নিতে পারেননি কিছুই, কাপড়-নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিয়েছে ভারত