কুমিল্লা কামরুল ইসলাম (১৬)। বালিশের ওপর রাখা লোহার রড বাঁধা ডান পা। ঊরু থেকে প্লাস্টার করা। হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এ শিক্ষার্থী। তার পাশে বসে মাথা হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন মা কুলসুম আক্তার। সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।
কামরুল কুমিল্লা দেবীদ্বার পৌরসভা এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন ছেলে। জাহাঙ্গীর তাদের পরিবারের কোনো খোঁজ নেয়না। কামরুল স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।
গত (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেবীদ্বারে বিজয় মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় কামরুল।
ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কুলসুম আক্তার বলেন, “তিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন। স্বামী সংসারের খবর নেন না। গত ৫ আগস্ট তিনি লোকমুখে শোনেন কামরুল গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। পরে দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ছেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তখন কামরুলের পা থেকে রক্ত ঝরছিল।”
মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে কামরুল বলেন, “বিজয় মিছিলে যোগ দিতে দেবীদ্বার থানার সামনে যাই। এ সময় হঠাৎ গন্ডগোল শুরু হয়। একটি গুলি ডান পায়ে এসে লাগে। মাটিতে পড়ে যাই। মাথার ওপর দিয়ে অনেক গুলি চলে যায়। কতক্ষণ অজ্ঞান ছিলাম জানি না। জ্ঞান ফিরলে দেখি কয়েকজন আমাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। আমি যে বাঁচব এটা কল্পনাও করিনি।”
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কামরুলকে প্রথমে দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গত বুধবার কামরুলের পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি মাহমুদা আক্তার জানান, “কামরুলের রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। তার পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শুনে তিনি হাসপাতালে এসেছেন এবং তিনি রক্ত দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন আবু জাফর সালেহ বলেন, “গুলিতে কামরুলের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আগের থেকে পায়ের অবস্থা ভালো। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক
কবে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান
বিচারের আগে সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই: আসিফ মাহমুদ
ছাত্র-জনতার বিপ্লব ব্যর্থ করতে পরাজিতরা চক্রান্ত করছে: মির্জা ফখরুল