বন্যার কারণে এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ত্রিপুরার বিদ্যালয়গুলো মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব বিদ্যালয়ে এখনো ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে, সেগুলো এখনো চালু হয়নি। গত ১৯ আগস্ট থেকে অবিরাম বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস হয় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় এ রাজ্যটিতে।
এছাড়া, বন্যায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, দু’জন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এসময় রাজ্য সরকার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
শিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর নৃপেন্দ্র চন্দ্র শর্মা স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে এমন স্কুল বাদে সমস্ত স্কুল, সরকারি, বেসরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল মঙ্গলবার থেকে খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শর্মা পৃথকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল।
উচ্চশিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর অনিমেষ দেববর্মার জারি করা অন্য একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মঙ্গলবার থেকে পুনরায় চালু করা হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে ২০৯টি স্কুল ও কয়েকটি কলেজের অবকাঠামো এবং তাদের বই, নথিপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে শিক্ষা দফতরের ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ২৩৯টি স্কুলে ত্রাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বন্যার কারণে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বইও নষ্ট হয়ে গেছে। হাজার হাজার শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং শিক্ষা বিভাগের কর্মচারীরা ত্রাণ কাজ এবং ত্রাণ শিবিরের বন্যার্ত মানুষ এবং বন্দীদের মধ্যে খাবারের প্যাকেট, জল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণে নিযুক্ত রয়েছেন।
