থাইল্যান্ডের কোহ ফাঙ্গান দ্বীপে গত বছর এক চিকিৎসককে হত্যার দায়ে স্পেনের এক অভিনেতার ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে টেলিভিশন তারকা রোডোলফো সানচো আগুয়েরের ছেলে ড্যানিয়েল সানচো ব্রনচালো দাবি করেন, তিনি আত্মরক্ষার জন্য এডউইন আরিয়েতা আর্তেগা নামে কলম্বিয়ার ওই প্লাস্টিক সার্জনকে হত্যা করেন। ২০২৩ সালের আগস্টে সানচো এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সানচোর মা হলেন অভিনেত্রী সিলভিয়া ব্রঙ্কালো এবং তার দাদা ছিলেন প্রয়াত অভিনেতা ফেলিক্স অ্যাঞ্জেল সানচো গ্রাসিয়া। ৩০ বছর বয়সী সানচো সে সময় স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে বলেছিলেন, তিনি আরিয়েতার কাছে ‘জিম্মি’ ছিলেন। এই মামলাটি স্পেনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক সাংবাদিক এই বিচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে থাইল্যান্ডেও গিয়েছেন।
নিহতের পারিবারিক আইনজীবী বুসাকর্ন কাইলিলেদ জানান, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, লাশ লুকিয়ে রাখা এবং সম্পত্তি ধ্বংসের দায়ে সানচোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কোহ সামুই দ্বীপের একটি আদালত তাকে প্রাথমিকভাবে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে বিচারের সময় তার সহযোগিতার কারণে পরবর্তীতে এ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরিয়েতার পরিবারকে ৪০ লাখ বাথ (১ লাখ ১৮ হাজার ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোহ সামুই আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বুসাকর্ন বলেন, ‘বাদী এই রায়ে সন্তুষ্ট কারণ তাকে (সানচো) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তারা (বাদী) কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন।’
এর আগে গত বছরের আগস্টে কোহ ফাঙ্গানের একটি ভাগাড়ে আরিয়েতার লাশের কিছু অংশ খুঁজে পায় পুলিশ। সে সময় সানচো পুলিশকে জানান, ৪৪ বছর বয়সী আরিয়েতা নিখোঁজ। আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার দায় স্বীকার করে সানচো। পরে সানচো পুলিশকে দ্বীপের আশেপাশের ৭টি স্থানে নিয়ে যান যেখানে তিনি আরিয়েতার ছিন্নভিন্ন দেহটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফেলে দিয়েছিলেন।
থাই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অনলাইনে পরিচয়ের পর সানচো ও আরিয়েতার তাদের দেখা হয়। তদন্তে দেখা গেছে সানচো একটি ছুরি, রাবারের গ্লাভস এবং ক্লিনিং এজেন্টের বোতল কিনেছিলেন। যার ফলে পুলিশ মনে করে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত।
আসামিপক্ষের যুক্তি ছিল, আরিয়েতা যখন তাকে যৌন মিলনে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল তখন সানচো আত্মরক্ষার জন্য তা করেছিলেন। স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল মুন্ডোতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সানচো বলেন, সার্জন তাকে ‘ধর্ষণের’ চেষ্টা করেছিল।
