অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট বিজ্ঞাপন নির্মাতা-প্রযোজকদের

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০৬ এএম

চার দফা দাবিতে বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ক্লায়েন্টদের বিরুদ্ধে এক অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন নির্মাতা এবং প্রযোজকরা। আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের এই কর্মসূচি চলছে বলে জানালেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাডফিল্ম অ্যান্ড কনটেন্ট প্রডিউসারস (বিএএসিপি)। তাদের এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে বিজ্ঞাপনচিত্র শিল্পের ১১ সংস্থাও।

জানা গেছে, দেশের সংস্কারের পাশাপাশি এই মুহূর্তে শিল্পাঙ্গনকেও সংস্কার করা প্রয়োজন এবং এটাই উপযুক্ত সময় বলে দাবি করছেন তারা। সেই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, নিজেদের অধিকার সুরক্ষায় দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

তাদের উত্থাপিত চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে পূর্ববর্তী বকেয়া নিষ্পত্তি, সময়ানুযায়ী কাজের আদেশ, যে কোনো কাজের আগে ৭৫ ভাগ অর্থ অগ্রিম প্রদান এবং বাকি ২৫ ভাগ বিল তৈরির ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এই বিষয়ে প্রযোজকদের সংস্থা বিএএসিপি’র সভাপতি হাবিবুর রহমান তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুধু প্রযোজকদের নয়, প্রোডাকশন হাউজ থেকে শুরু করে সবার স্বার্থ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই ইন্ডাস্ট্রিটাতে কাজের একটা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দিতে চাচ্ছি। বিজ্ঞাপনী সংস্থা, এজেন্সি এবং ক্লায়েন্টদের বহুবার জানানোর পরেও এর কোনো সমাধান হচ্ছিল না। প্রথমে চেয়েছিলাম ঘরের সমস্যাটা ঘরেই সমাধান হোক কিন্তু সেটা হয়নি। যার কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের এই পন্থায় নামতে হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তাদের জানিয়েছি। যারা এগুলো মানবেন না তাদের সঙ্গে আমরা কেউই কাজ করব না, এটাই আমাদের সবার সিদ্ধান্ত।’ রান আউট ফিল্মসের কর্ণধার আদনান আল রাজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো এখনো সেই পঞ্চাশ বছর আগের নিয়মেই চলছে। অনেক বলার পরেও তারা কোনো ভ্রুক্ষেপ করছেন না। একটা সঠিক ওয়ার্ক অর্ডার নেই, পেমেন্ট, বিলিং নিয়ে ঝামেলা। কোনো কিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছে না। যেগুলোর জন্য অনেক নির্মাতা কিংবা প্রযোজকদের ভুগতে হচ্ছে। আমরা হয়তো কয়েকজন সেটা পেরে উঠতে পারছি কিন্তু সবাই তো পারছে না। কেউ কেউ না পেরে পেশাই ছেড়ে দিচ্ছেন। সবসময় তো নিজের পকেট থেকে দিয়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।’

ইনডি রিলস প্রোডাকশন হাউজের কর্ণধার দিদারুল ইসলাম শিশির বলেন, ‘আমরা চারটা দাবি উত্থাপন করেছি যেগুলো খুবই নায্য। আমাদের এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া খুব জরুরি। এই দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কোনো কাজে নামছি না।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাডফিল্ম অ্যান্ড কনটেন্ট প্রডিউসারস (বিএএসিপি)-এর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সমর্থন জানিয়েছে অন্য সংস্থাগুলোও। এরমধ্যে রয়েছে অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ফিল্ম মেকারস অ্যাসোসিয়েশন (এডিএফএ), বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স অব সিনেমাটোগ্রাফারস (বিএসি), পোস্ট প্রোডাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি), আর্ট ডিরেক্টরস অ্যান্ড কস্টিউম ডিজাইনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বিএএএমএস। এছাড়াও তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে মেকআপ, প্রোডাকশন ম্যানেজার, লাইট, ক্যামেরা, কাস্টিং পরিচালক এবং সেট নির্মাতারাও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত