আত্মগোপন থেকে বেরিয়েই যুবলীগ কর্মীর হামলা!

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:০৫ পিএম

বরিশাল মুলাদী উপজেলায় আত্মগোপন থেকে এলাকায় ফিরেই বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামের যুবলীগের কর্মী সাইফুল ব্যাপারী ও তার অনুসারীরা বিরুদ্ধে।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ কাজিরচর রেইন্ট্রিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

গত ৪ আগস্ট চায়ের দোকানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার জের ধরে এ হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আহতরা। এ ঘটনায় আজ বিকালে কবির হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় অভিযোগ করেছেন। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

আহতরা হলেন, দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামের ফয়জদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী কবির হোসেন হাওলাদার (৫৪) এবং কালু ব্যাপারীর ছেলে বিএনপি কর্মী ইউনুছ ব্যাপারী (৬৫)। 

আহত ইউনুছ ব্যাপারী জানান, অতর্কিত হামলা চালানো হয় তাদের উপর। হামলাকারীরা সবাই কাজিরচর ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিল বলে জানান ইউনুছ। 

আহত কবির হোসেন হাওলাদার জানান, গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় রেইন্ট্রতলা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের গুলি করার বিষয়ে প্রতিবাদ করেন। তখন যুবলীগ কর্মী সাইফুল, ইউনুছ ও রফিকের সঙ্গে কথার কাটাকাটি হয়। পরে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলে ওই যুবলীগ কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এক মাসের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এলাকায় ফেরেন তারা। পরে রবিবার কাজে যাওয়ার সময় কবিরের পথরোধ করে মারধর শুরু করেন যুবলীগ কর্মীরা। ওই সময় ইউনুছ ব্যাপারী তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে আহতদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাদের উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করান। 

অভিযুক্ত  যুবলীগ কর্মী সাইফুল ব্যাপারী বলেন, প্রায় এক মাস পর এলাকায় ফেরার পরে কবির হাওলাদার কটূক্তি করায় তার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হামলা কিংবা তাকে আহত করা হয়নি। 

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত