লক্ষ্মীপুরে বন্যায় প্রায় ১১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি খামারিদের

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম

লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১১ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে খামারিসহ গৃহস্থরা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। লক্ষ্মীপুর প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ক্ষয়ক্ষতির এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় ৫ উপজেলায় ৫৮টি গরু ১ টি মহিষ ১৯৮ টি ছাগল, ১৭টি ভেড়া ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৪ শর্ত ৭০ টি মুরগি, ১ হাজার ১ শত ৪০ টি হাঁস মারা যায়। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২৪ হাজার ১ শত ৩৪ টি গরু, ৩ হাজার ৭৮ টি মহিষ, ১৪ হাজার ৮ শত ৪টি ছাগল, ৯ শত ৭২ টি ভেড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৩ হাজার ৭ শত ৯১ একর  চারণ ভূমি প্লাবিত হয়। সূত্রে  আরও জানায় জেলা ৩৩১ টি খামার ও ১ হাজার ৩ শত ১ টি গাবাদি পশু অবকাঠামো ও এবং পশুর ক্ষতি হয়। এছাড়া ৪ শত ২৬ টি হাঁস মুরগি খামার ও ৫ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯ শত হাঁস মুরগির ক্ষতি হয়।  পশুপাখির দানাদার খাদ্য ও ঘাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

দিঘলী ইউনিয়নের গরু খামারের মালিক মো. ফারুক হোসেন, পার্বতীনগর ইউনিয়নের আবু ছায়েদ, বশিকপুর ইউনিয়নের নুরনবী সহ আরও অনেকে জানান বন্যায় তাদের খামারের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সহজে এই ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তারা সরকারি সহযোগিতার দাবি করেন।

বশিকপুর ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারের মালিক মামুনুর রশিদ জানান, তার খামারে ৪ হাজার মুরগী ছিল। বন্যার পানিতে সব মারা যায়, এতে তার ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলার রামগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায়।

লক্ষ্মীপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মাহমুদা সুলতানা জানান, বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খামারিদের। সরকার থেকে পাওয়া ৫ লক্ষ টাকা গো-খাদ্য কেনার জন্য ৫ উপজেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র জানান, এবারের ভয়াবহ বন্যায় গরু খামার ও পোল্ট্রি খামারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ৮১ লাখ ৩১ হাজার ২০০টাকা। আমরা আশা করি বন্যার পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতা ও কৃষকদের স্ব-উদ্যোগে এ সমস্যা অনেকটা দূর হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত