চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার সাবেক ওসি রফিককে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদঘাটন করা না হলে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের হাটহাজারী উপজেলা শাখার নেতারা।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আল আমিন সংস্থার কার্যালয়ে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের কর্মী ও মাদ্রাসাছাত্র হত্যার অভিযুক্ত আসামি গ্রেপ্তারকৃত ওসি রফিকুল ইসলামসহ সকল আসামিদের গ্রেপ্তার পূর্বক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
হেফাজকে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ মাস্টার।
তিনি বলেন, নিরীহ আলেম-ওলামা, হেফাজত নেতাকর্মীদের জঙ্গি তকমা লাগাতে আওয়ামী অপশক্তির প্রেসক্রিপশনে ওসি রফিকসহ তৎকালীন প্রশাসন এই তান্ডবের জন্য দায়ী। আমরা এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য ওসি রফিক সহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করছি।
তারা আরো বলেন, ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সাধারণ মুসল্লিদের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারীতে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে ওসি রফিকের সরাসরি নির্দেশে গুলি চালানো হয়। এতে চারজন হেফাজত কর্মী ও মাদ্রাসাছাত্র নিহতসহ অর্ধ-শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ওসি রফিককে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জামাই আদরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অথচ হেফাজত নেতা-কর্মীদের টর্চার সেলে নিয়ে ইলেক্ট্রনিক শক, হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলাসহ অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ, সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার, মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, মাওলানা রিজওয়ান আরমান, মাওলানা আবুল হাশেম, মাওলানা আনিস, মাওলানা আসাদ উল্লাহ, আবু তাহের রাজিবসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী।
