চলতি বছর এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ইয়াগির প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে উত্তর ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে বলে দেশগুলোর সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে জানা গেছে।
চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে তাণ্ডব চালায় চলতি বছরের এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুনটি। খবর বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৬ জনে। প্রায় ৮০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে মিয়ানমারে ভয়াবহ বন্যা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ভূমিধসের কারণে পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ভয়াবহ বন্যার কারণে কয়েক হাজার একর ফসল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এতে করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে লাখেরও বেশি মানুষ জরুরী খাদ্যের পাশাপাশি নিরাপদ পানীয়, বাসস্থান এবং বস্ত্রের সংকটে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে মিয়ানমারের নয়টি রাজ্য ও অঞ্চল ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দেশটির রাজধানী নেপিডাও রয়েছে। এছাড়াও উত্তর-পূর্বে শান রাজ্য এবং দক্ষিণে অবস্থিত সোম, কায়াহ এবং কাইন রাজ্যগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা এটি। জাতিসংঘের দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সংস্থার অনুমান, প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বন্যার কারণে অবরুদ্ধ রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের কারণে ত্রাণ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ শান রাজ্যসহ দেশের অনেক অংশ বিদ্রোহীদের দখলে থাকায় সেখানে সাহায্য পৌঁছাতে পারছে না বিভিন্ন সংস্থাগুলো।
এদিকে টাইফুন ইয়াগির কারণে থাইল্যান্ডে ১০ জন এবং লাওসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে টাইফুন ইয়াগির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামও রয়েছে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯২ জনে। এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া ইয়াগির প্রভাবে দুই লাখেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর ফসল ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
