বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার কাজ সম্পর্কে অস্পষ্টতার পাশাপাশি সমন্বয়হীনতাও দেখা যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসেরও ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার যাতে বিশেষ কোনও স্বার্থান্বেষীদের কাছে কোনোভাবে জিম্মি না হয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনে যে অস্থিরতা চলছে অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে।
আজ বুধবার সকালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফ ম্মরণে 'রক্তেভেজা গণঅভ্যুত্থান-গণআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাইফুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে নানা উসকানি, অনৈতিক চাপ ও প্রভাব মোকাবেলা করে তার নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত হলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আশু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগের পাশাপাশি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে এটাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে এন্টিবায়োটিক ব্যবস্থা হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আশা করেন জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন।
বিএনপির স্টান্ডিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্র-শ্রমিক জনতার গণঅভ্যুত্থান একদিনে সংগঠিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক দলসমূহ ও জনগণের বহুবছরের মরণপণ লড়াই সংগ্রাম। এবারকার ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম ষোলবছর ও ছত্রিশ দিনের। হঠাৎ কোনও ঘটনা সংগঠিত হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু সরকারকে তাদের ক্ষমতা ও এখতিয়ার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আমরা আশা করি রাজনৈতিক দল ও জনগণ আস্থায় নিয়ে সরকার সফল হবে।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক সোহরাব হাসান বলেন, অতীতে কয়েকবার স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র আসেনিম জনগণের মুক্তি হয়নি। এবার সবাইকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভদ্রোচিত অনেকগুলো কমিশন হয়েছে। কিন্তু শ্রমজীবী মেহনতিদের অধিকার নিয়ে কোনও কমিশন হয়নি।
আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে দুর্বৃত্ত মাফিয়া রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তারা অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে দেশবাসীকে পাহারায় থাকার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল হাকিম, এবি পার্টির আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্যসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি আবদুন নূর, ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট আমাদের ব্যাথিত করে: সারজিস আলম
একে একে ১৫ নারীকে বিয়ে, ফুলশয্যার ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল!
শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য ড. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী