বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন কন্ঠস্বর

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৪৯ পিএম

কলম্বোয় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের শেষ বলে সৌম্য সরকারের বলে ছয় মেরে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয় ভেঙ্গেছিলেন দীনেশ কার্তিক, অবিশ্বাস ভরা চোখে সেদিন মাঠ থেকেই সেটা দেখেছিলেন তামিম ইকবাল। দুজন তখন ছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধি। এখন দুজনের সাময়িক ঠিকানা একটাই- এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামের ইংরেজি ধারাভাষ্যের স্টুডিও। গত বছর মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অতিথি ধারাভাষ্যকার হিসেবে হাজির হয়েছিলেন তামিম ইকবাল, ৩০ মিনিট করে দুটো স্লটে ম্যাচের ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন। তবে এবার আর অতিথি নয়, অন্যতম প্রধান ভূমিকায়। রবি শাস্ত্রী, হার্ষা ভোগলে, মুরালি কার্তিক, দীনেশ কার্তিক, পার্থিব প্যাটেলদের সঙ্গে গোটা সিরিজ জুড়েই ধারাভাষ্য দেবেন তামিম।

চেন্নাইয়ের প্রচন্ডে গরমে অফিসিয়াল ধারাভাষ্যকারের কালো স্যুটে মধ্যাহ্ন বিরতির সময় উইকেটে দাঁড়িয়ে পার্থিব প্যাটেলের সঙ্গে ম্যাচের গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করছিলেন তামিম ইকবাল। স্টুডিওতে উঠে আসতে আসতে তাই খানিকটা ক্লান্ত, কথা বলার অনুমতি চাইলে বললেন চা-বিরতি’র সময় যেতে। বাংলাদেশ ততক্ষণে ভারতের ৬ উইকেট ফেলে দিয়েছে, এজন্য নিশ্চয়ই তামিমের মনমেজাজও ফুরফুরে। পরের বার দেখা হতেই জানালেন নিজের নতুন এই অভিজ্ঞতার কথা, 'ধারাভাষ্য মাত্রই করা শুরু করেছি, প্রথম এক দুই সেশনে (ধারাভাষ্যের) একটু নার্ভাস ছিলাম, যেটা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। এখন আস্তে আস্তে মনে হচ্ছে যে একটু ভালো হচ্ছে। এটা এমন জিনিষ, যেটা আমার জন্য ন্যাচারাল না, তাই এটাকে যদি আমি পেশা হিসেবে নিতে চাই তাহলে আমাকে অনেক কাজ করা লাগছে।'

ধারাভাষ্য করার আগে বেশ প্রস্তুতি নিয়েছেন তামিম, জানালেন, ‘অবশ্যই অনেক হোমওয়ার্ক করেছি। কোন প্লেয়ার কোন জায়গায় স্ট্রং, কোন প্লেয়ারের উইকনেস কোন জায়গায়, আমাদের ফাস্ট বোলাররা কি করছে না করছে সবকিছু জানতে হয়েছে।' ধারাভাষ্যে ক্রিকেট জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দরকার বাচিক দক্ষতাও। সেজন্যেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তামিম, '(ভয়েস মডুলেশন) এগুলো নিয়েও ক্লাস করেছি। এখানে আসার আগে মাত্র দুটো ক্লাস করতে পেরেছি। যেটা বললাম, যদি পেশা হিসেবে নিতে হয় তাহলে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে।'

পার্থিব প্যাটেলের সঙ্গে খেলার বিশ্লেষণে তামিম ইকবাল। ছবি: মোশারফ ভুবন

দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে শোনা যাচ্ছে আতাহার আলী খানের কন্ঠস্বর। মাঝে শাহরিয়ার নাফীস, মেহরাব হোসেন জুনিয়ররা চেষ্টা করলেও কেউই থিতু হতে পারেননি। বাংলাদেশের ঘরোয়া আসর এবং সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা অনেকেই ধারাভাষ্য দেন, তবে বিসিসিআই এই ব্যপারে খুবই নিয়মতান্ত্রিক। ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ সম্প্রচার হচ্ছে হিন্দি, ইংরেজি এবং তামিল তিন ভাষাতেই। আছেন অভিষেক নায়ার, সাবা করিমদের সাবেকরাও যাদের জনপ্রিয়তা হয়তো রবি শাস্ত্রী বা দীনেশ কার্তিকদের মত নয়। একমাত্র হার্ষা ভোগলে ছাড়া বাকি সবারই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা। দীনেশ কার্তিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জুন মাসে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ধারাভাষ্য দিচ্ছেন। তার সমসাময়িক অনেকেই এখনো খেলছেন, তাই আধুনিক  যুগের ক্রিকেটারদের মানসিক গড়নটা সহজেই ধরতে পারেন কার্তিক।

তামিম নিশ্চয়ই কাজে লাগাবেন বাংলাদেশ দলে লম্বা সময় ধরে খেলার অভিজ্ঞতাটা। হাসান মাহমুদের সঙ্গে সবশেষ মৌসুমেই ঢাকা লিগে খেলেছেন প্রাইম ব্যাংকের হয়ে। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, লিটন দাসদের সঙ্গে খেলছেন তো লম্বা সময় ধরেই। মাইক্রোফোনে তাদের নিয়ে ছোট ছোট সব গল্প, পারফরম্যান্সের প্রস্তুতির পেছনের গল্প সবই নিশ্চয়ই তুলে ধরবেন তামিম, হয়ে উঠবেন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন কন্ঠস্বর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত