শ্রীপুরে গুজব ছড়িয়ে বিজিবি সদস্য হত্যার অভিযোগে দেড় মাস পর মামলা

  • গুজব রটিয়ে বিজিবি সদস্য হত্যার ঘটনায় দেড় মাস পর মামলা করেছে বিজিবি
  • ৫ আগস্ট শ্রীপুরে বিজিবি ও জনতার সংঘর্ষে নায়েক শেখ আবদুল আলীম নিহত হন
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৪৭ এএম

গত পাঁচ আগস্ট গাজীপুরের শ্রীপুরে বিজিবি সদস্যদের ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সদস্য বলে গুজব ছড়িয়ে হামলা করে আন্দোলনকারীরা। এতে আব্দুল আলীম নামে এক বিজিবি সদস্য নিহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের সব যানবাহনও।

গুজব রটিয়ে বিজিবি সদস্য হত্যার ঘটনায় সরকার পতনের দেড় মাস পর মামলা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত লোকজনকে (জনতা) আসামি করে হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করা হলেও গতকাল শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়টি জানা গেছে।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শ্রীপুরে বিজিবি ও জনতা দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক শেখ আবদুল আলীম হত্যার শিকার হন। ঘটনার দেড় মাস পর এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হলো। এ মামলার বাদী বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ময়মনসিংহের সেক্টর দপ্তরের নায়েব সুবেদার সোহেল রানা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর সদর দপ্তরের নির্দেশে সেখান থেকে গাজীপুর শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা বিধানের জন্য ২ টি পিকআপ ও  ৮ টি বাসে ( ব্যক্তি মালিকানা পাবলিক বাস) করে বিজিবি সদস্যরা কনভয় আকারে ঢাকা -ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে গাজীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ সময় মাওনা ফ্লাইওভারে  উত্তর পাশে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় এলাকায় তারা বড় ধরনের ব্যারিকেডের সম্মুখীন হন । এ অবস্থায় সড়কে অবস্থান করা স্থানীয়দের মধ্যে ‘ বিজিবির পোশাক পরে ভারতীয় বিএসএফ ও র এর এজেন্ট ঢাকায় যাচ্ছে ‘ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা করে বসে । তাঁদের অস্ত্র ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরপর চারদিক থেকে আরও লোকজন এসে বিএসএফ সন্দেহে বিজিবি সদস্যদের মারধর করতে থাকে। হামলায় বিজিবির নায়েক  শেখ আবদুল আলীমসহ আরো ১০-১২ জন বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন।

এ সময় জীবন রক্ষার্থে বিজিবি কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে আরো বেশি স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকেন ওই এলাকায়। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত জনতা বিজিবির নায়েক আবদুল আলীম শেখকে গুরুতর আক্রমণ করে হত্যা করেন। উত্তেজিত জনতা বিজিবিকে বহন করা একাধিক গাড়ি পুড়িয়ে দেয় । এ দিকে কয়েকজন স্থানীয় মানুষ সাহায্য করলে বিজিবির বাকি সদস্যরা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে সক্ষম হন।

মামলার বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার বিজিবির পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এখন মামলার প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত