বুয়েটে দ্বিতীয় দিনেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত, অভিযুক্তদের আসন বাতিল

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের প্রতিবাদে এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতিতে বেশকিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে কতজনের আসন বাতিল করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে এ আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত হলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এখন পর্যন্ত তাদের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। গত সোমবার রাতে ছাত্রলীগকে সহায়তাকারী অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তীব্র ক্ষোভ থেকে ওইদিন মধ্যরাতেই ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার সিদ্ধান্ত। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার রাতে ব্যাচভিত্তিক শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কারো নামে রাজনীতিকেন্দ্রিক অভিযোগ আবার কারো নামে র‍্যাগিং নিয়ে। বুয়েট কর্তৃপক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের আসনগুলো সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) মোহাম্মদ আল আমিন সিদ্দিক বলেন, হল প্রভোস্টদের কাছে যাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে হলের অভ্যন্তরীণ  শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের হলের আসন বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি হলে আসন বাতিল করা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিতে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ চলমান রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সাথে তদন্ত কমিটির সম্পর্ক নাই। আসন বাতিলের বিষয়টি স্থায়ী বা সাময়িক কিছু না। মূলত হলের পরিবেশ দিনদিন উত্তপ্ত হয়ে যাচ্ছিল সেই পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত