চট্টগ্রামে মারধরের পর ২০ লাখ টাকা লুটের শিকার হওয়া ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ওরফে আকাশের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়ের হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে বায়েজিদ থানাধীন কুঞ্জুছায়া এলাকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহজাহান বর্তমানে পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘মারধরের পর ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা লুট’ শীর্ষক একটি সংবাদ দেশ রূপান্তরের অনলাইনে প্রকাশিত হয়।
তার স্ত্রী নিলুফা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ বামার্ইয়া সাইফুলের ২০/২২জন সহযোগী রাতের আঁধারে কুঞ্জছায়ায় আমার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর তার হেফাজতে থাকা ২০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এখন অভিযুক্তরাই স্বামীকে চাঁদাবাজ তকমা দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমার স্বামী এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরো সাজার্রি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় থাকছেন। পুলিশ বলছে, স্বামীর জীবন হুমকিতে তাই পুলিশের পাহারায়।’
নিলুফা বেগম জানান, তার স্বামী ফার্নিচার ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থল কুঞ্জছায়া এলাকায় ‘মায়া ডোর’ নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। নিলুফার অভিযোগ, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোয়া ১২টার মধ্যে তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বামার্ইয়া সাইফুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় তার স্বামীকে মারধর করে পকেটে থাকা ৭০ হাজার এবং মানিব্যাগে থাকা ৮ হাজার ৬০০ টাকা, দুটি সোনার আংটি, একটি আইফোন ও একটি সুজুকি মডেলের মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় সাইফুল বাহিনীর সদস্যরা। তাকে (শাহজাহান) সেদিন মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে চম্পট দেয় তারা। এ সময় বায়েজিদ থানার এসআই আরিফুল ইসলাম তার স্বামীকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন শাহজাহানের উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। সেদিন অন্তত ২৮ লাখ টাকার দামি ফার্নিচার লুট করা হয় বলে অভিযোগ নিলুফারের।
৭/৮ বছর আগে শাহজাহান পুলিশের সোর্স গিরি করতেন জানিয়ে তার স্ত্রী নিলুফার দাবি করেন, শাহজাহান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার ওপর হামলায় বার্মাইয়া সাইফুলের ভাই সবুজ, ফাহিম ও হানিফ ও সোর্স সাগর জড়িত।
এদিকে শাহজাহান তার হেফাজত থেকে ২০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ করলেও পুলিশ ওই ঘটনার তদন্তই শুরু করেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। এ প্রসঙ্গে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনশ্রুতি আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহজাহান ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন। যেখানে তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন সেটি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। ওই প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। শাহজাহানের চাঁদাবাজির শিকার এক ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
অবশ্য এই শাহজাহানের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় ফৌজদারি অভিযোগে ইতিপূর্বে কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানান ওসি আরিফুল।
জানতে চাইলে সিএমপির ডিসি নর্থ ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘শাহজাহান ওরফে আকাশের বিষয়ে আমরা নিবিড় তদন্ত করে দেখছি। তিনি যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মূল্যস্ফীতি কী? কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে?
দেশে ফিরলেন মিজানুর রহমান আজহারী
কারাগারে মাহমুদুর রহমান, যা বললেন আইন উপদেষ্টা
৯৪৫ কোটি টাকা সহায়তা পেল দুর্বল ৪ ব্যাংক