ঢাবির শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক হওয়ার দৌড়ে বিতর্কিতরা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:০০ পিএম

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পদত্যাগের হিড়িক পড়ে। এরমধ্যে গত ২১ আগস্ট পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহান আলী। এরপর থেকে ফাঁকা পড়ে আছে পদটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরের কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিচালক নিয়োগ দিতে পারেন উপাচার্য। তবে এই পদে দায়িত্ব নিতে অনেকেই দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। যাদের অধিকাংশই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।

জানা যায়, নিয়মবহির্ভূতভাবে একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ রয়েছে ঢাবির শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. আজাদ রহমান ও একই দপ্তরের আরেক উপ-পরিচালক এসএম জাকারিয়া বাবুর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে বাইরের প্রতিষ্ঠানেও কাজ করছেন তারা। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তলব করলেও এখনো তারা বহাল তবিয়তেই আছেন। এবার তারা দুজনই পরিচালক হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা অন্য কোথাও চাকরি করতে পারবেন না। অন্য কোথাও চাকরি করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং আয়ের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে তারা কোনো নিয়মই মানেননি।

পরিচালক হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন আরেক পরিচালক নয়না চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে শেষবারের মতো সতর্ক করা হয় এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়। চাকরি প্রায় যায় যায় অবস্থায় ছিল, আওয়ামী লীগের নেতাদের সুপারিশ নিয়ে চাকরি রক্ষা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া তার ফুফু সৈয়দা আনোয়ারা হক গত নির্বাচন কমিশনের সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেকেই চেষ্টা করবে এটা স্বাভাবিক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের মধ্য দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকেই পরিচালক নিয়োগ দেবে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও কর্তৃপক্ষ দেখবে। সাধারণত সবকিছু যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও স্পোর্টস বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশাকে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত