আর এক মাস পরই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ লক্ষ্যে জোরদার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেখা দিচ্ছে নানা আশংকা। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পরতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন দেশটির গোয়েন্দারা। খবর ভয়েজ অব আমেরিকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করতে দেশের ভোটারদের ভুয়া তথ্যর বন্যায় ভাসিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ, এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে অফিস অফ দ্য ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর সর্বশেষ মূল্যায়ন সোমবার প্রকাশ করা হয়। সেখানেই এসব তথ্য উঠে আসে।
আর এসব তথ্য ছড়ানোর জন্য রাশিয়া, ইরান, কিউবা এবং চীনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
একজন মার্কিন সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, “আমরা দেখছি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।“
তিনি বলেন, গোয়েন্দা মহল ধারনা করছে, যেসব বিদেশি প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে তারা ভোট গ্রহণ শেষ হবার পর নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ফেলার জন্য তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।”
সোমবার কর্মকর্তারা বলেন, ‘ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রভাব বিস্তার করার তৎপরতার বেশির ভাগের জন্য রাশিয়া, ইরান এবং চীন দায়ী।
কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী কমালা হ্যারিসের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কাজ করছে।
ইরানের লক্ষ্য হল হ্যারিসকে সাহায্য করে ট্রাম্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। কর্মকর্তাদের ধারণা, মূলত তিনজন ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস বাহিনীর পক্ষে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারনা, চীন এখনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে না। তাদের লক্ষ্য যেসব প্রার্থী চীনের স্বার্থ-বিরোধী এবং তাইওয়ানের পক্ষে সরব, তারা যাতে নির্বাচিত না হন, সে লক্ষ্যে ভোটারদের প্রভাবিত করা।
রাশিয়া, চীন এবং ইরান সবাই অতীতেও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রতিবেদন নিয়ে রাশিয়া, ইরান এবং কিউবার মন্তব্য চাওয়া হলেও কোন উত্তর দেয়নি তারা।
এদিকে চীন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ নাকচ করে দেয়।
