চিন্তা-চেতনার উন্নতি দরকার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৫২ এএম

২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া গিয়েছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। এবার গিয়েছেন মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে। বিশে^র ৭৫টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে তিনি আরেকটি আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। দর্শক ভোটে ১০ জন এবং জুরিদের পছন্দে ১০ জন নিয়ে সেরা ২০ যাবে চূড়ান্ত পর্বে। নির্বাচিত ২০ জনের একজন থেকে সব প্রতিযোগীদের মতো লড়ছেন জেসিয়াও।

এই মুহূর্তে জেসিয়া রয়েছেন পাতায়া সমুদ্র সৈকতে। সেখান থেকেই জানালেন সুন্দরীদের আয়োজনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা। জেসিয়া বললেন, এখন পর্যন্ত তিনটি আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি, এসবের অভিজ্ঞতা আমাকে ঋদ্ধ করেছে। এখনো হচ্ছি। এই যেমন থাইল্যান্ডে এসে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে মিশছি।

জেসিয়ার ভাষ্য, বিভিন্ন দেশের সুন্দরীদের সঙ্গে সংস্কৃতির আদান প্রদান চলে, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও তাদের জীবন আচরণ সম্পর্কে জানা যায়। তবে এই বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের মানুষ যে চিন্তা চেতনা ও মানসিকতায় চলছে, তা থেকে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পিছিয়ে। ভ্রান্ত ও পুরনো ধ্যান ধারণা নিয়েই আছে। আমাদের চলাফেরা, পোশাক, জীবনযাপন এসব নিয়ে চিন্তা চেতনার উন্নয়ন ঘটানো দরকার। মানবিকতা নিয়ে, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, মানুষ মানুষের জন্য এই চিন্তা ভাবনার উন্নয়ন ঘটানো দরকার। কীভাবে উন্নয়ন সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে জেসিয়া বলেন, আমার মতো অন্তত ২০ জন মেয়ে দরকার। যারা বিশ্বের এসব আয়োজনে অংশ নেবে এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। এরাই পরে বাংলাদেশের ওই সব মানুষের চিন্তা চেতনা পরিবর্তনের জন্য কাজ করবে।

জেসিয়া প্রসঙ্গতে থেকেই বললেন, আমরা আসলে কী করছি, মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করছি। মানুষ যেন মানুষের মতো বাঁচতে পারে। নারীরা যেন নির্যাতিত না হয়, নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ তৈরি করা এসবের জন্যই তো আমরা কাজ করছি। এই সংখ্যাটা যখন আমি একজনের জায়গায় ২০ জন হবে তখন আমার মনে হয় একটা বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

আগামী ২৫ তারিখ মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনালের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। এরপরে জেসিয়া ফিরবে ২ কিংবা তিন নভেম্বর। চলমান এই প্রতিযোগিতায় জেসিয়াকে ইতিমধ্যে সুইম স্যুটে দেখা গেছে, যা দেশের সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এদিকে, দেশে ফিরেই অভিনয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করবেন। ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হওয়া জেসিয়া ইসলাম বললেন, আমি এরই মধ্যে দুটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। এই জায়গাটিতে কাজের স্বপ্ন দেখতাম ছোটবেলা থেকে। তাই এখানেই আমি বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি। এখন আমার হাতে কোনো চলচ্চিত্রের কাজ নেই। তবে কাজ করব, অনেকগুলো প্রস্তাব আছে। চিত্রনাট্য, গল্প, নির্মাতা, সহশিল্পী, সবকিছু মিলে একটা প্যাকেজ। এই প্যাকেজ মিলে গেলে কাজ করব। সহশিল্পীর বিয়য়ে জেসিয়া সবসময় মেধাবীদের গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে সহশিল্পী খুব নামি হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে শাকিব খান হলে সেটা অনেকটাই সৌভাগ্যের। এ বিষয়ে জেসিয়া বললেন, শাকিব খান আসলে এমন একজন অভিনেতা, তিনি অনেকগুলো জেনারেশনের অনুপ্রেরণা। তার সঙ্গে কাজ করাটা বেশ ভালো ব্যাপার। আর শাকিব খান এককভাবে ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটা বেশ ইতিবাচক। তবে আমি মনে করি আমাদের আরও ১০ জন শাকিব খান দরকার।

জেসিয়া অভিনয়ে জয়া আহসানকে আদর্শ মানেন। বললেন, তার অভিনয় আমাকে বিমুগ্ধ করে। আমি তার অভিনয় দক্ষতা, তার ফ্যাশন সচেতনতা সবকিছুই অনুসরণ করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত