প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরিবেশবান্ধব আবহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দ্বীপটিতে চার মাসের জন্য পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত যাওয়া এবং থাকা যাবে। তবে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মানুষ যেতে পারবে না সেখানে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তখন সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, এই দ্বীপের পরিবেশগত বৈচিত্র্য ধরে রাখতে পরিবেশবান্ধব চিন্তা করে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গেল প্লাস্টিক পুরোপুরিভাবে সেন্টমার্টিন নিয়ে যাওয়া বন্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ না করলে দ্বীপে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।
দিনে দুই হাজার পর্যটক কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, পর্যটকরা যখন যাবেন তখন নাম্বারিং করা হবে।
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, প্রতিটি নাগরিকের দাবি জানানোর অধিকার আছে। দীর্ঘদিনের অপশাসনের কারণে মানুষের মনে অনেক ক্ষোভ রয়েছে। তাই যেকোনো যৌক্তিক দাবি শুনতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যালোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তবে রাস্তা বন্ধ রেখে বা জনদুর্ভোগ তৈরি করে এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাবি না জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানন। আজাদ বলেন, নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে যে কেউ সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে যে সার্চ কমিটি গঠিত হতে যাচ্ছে সেটি রীতি মেনে হবে। নির্বাচনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এই সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সার্চ কমিটি গঠন করা নির্বাচন সংস্কারের অংশ এবং অন্যান্য সংস্কার সমান্তরালভাবে চলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢালাও মামলার বিষয়ে উপপ্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, মামলা করা একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। এর থেকে কাউকে সরকার ঠেকাতে পারবে না। তবে সরকার বারবার বলে আসছে ঠালাওভাবে যেন মামলা না হয়। তিনি আরও বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেছে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে আজাদ মজুমদার বলেন, ‘তিনি নিজেই বলেছেন তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটা কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা সরকারের পক্ষ থেকে হয়নি। এটি ব্যক্তি উদ্যোগে হয়েছে।’
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব নাইম আলী ও সুচিস্মিতা তিথি।
