এবার ওয়ানডে না খেলার অজুহাত!

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৪ এএম

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই হলেও সংবাদ সম্মেলনে শব্দচয়নে প্রত্যেকেই সেঞ্চুরি এবং ৫ উইকেট নেওয়ার মতোই কৃতী! কেউ সাংবাদিকদের ক্রিকেট শেখান, কেউ অদ্ভুত সব যুক্তি দেন। মেহেদী হাসান মিরাজ বাকপটু হিসেবেই পরিচিত, মাইক্রোফোনের সামনেও নিয়মিত। শুক্রবার শারজায় দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ম্যাচে হারের কারণ হিসেবে বলেছেন ওয়ানডে খেলার অনভ্যস্ততার কথা!

ক্রিকেটের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৩ সংস্করণের ভেতর ওয়ানডে অর্থাৎ ৫০ ওভারের ক্রিকেটেই বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো দল, এই দাবি ক্রিকেটারদেরই। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হয় ৫০ ওভারের ক্রিকেট, ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার বড় অংশ জুড়েই ওয়ানডে। মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ শুধু বাংলাদেশ দলেই নন, বিশ্বেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের তালিকায় ওপরের দিকে। এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে ২৭২ ম্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় অভিজ্ঞতম ক্রিকেটার মুশফিক, ২৯৫ ম্যাচ খেলা বিরাট কোহলি আছেন তার ওপরে। মাহমুদউল্লাহও খেলেছেন ২৩৩ ওয়ানডে, ম্যাচ সংখ্যায় ছুঁয়ে ফেলেছেন জাভেদ মিয়াঁদাদকে আর ছাড়িয়ে গেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো কিংবদন্তিদেরও। তবুও তারা করে গেছেন শিশুতোষ সব ভুল, এমন বোলারের বলে মুশফিক আউট হলেন যার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ৫ ম্যাচের! এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পরেও মিরাজ এসে জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট খেলার টানা সূচিতে ওয়ানডে খেলতে ভুলে যাওয়ার অদ্ভুত অজুহাত, ‘দেখেন, যেহেতু আমাদের সুযোগ আছে। একটা ম্যাচ হেরেছি, এখনো দুটো ম্যাচ আছে। আমরা দুটো ম্যাচ চিন্তা না করে পরের ম্যাচটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমরা একটু পিছিয়ে আছি। যেহেতু একটা ম্যাচ খেলেছি এখানে, লম্বা সময় পর ওয়ানডে খেলছি; আপনি দেখেন সাত আট মাস আগে আমরা খেলেছি। সবার ভেতর ওই জিনিসটাও একটু কাজ করছিল যে অনেকদিন পর আমরা ওয়ানডে খেলেছি। প্রস্তুতিটা ওভাবে নিচ্ছি। আশা করি যে যেহেতু অনেকদিন পর খেলেছি, এই মাঠের একটা ধারণা হয়েছে। সবাই ভালো মোমেন্টাম কীভাবে নিতে হবে সেটা আমরা প্র্যাকটিস করছি।’

বাংলাদেশ এই সিরিজের আগে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিল এই বছর মার্চের ১৮ তারিখে। মাস আটেকের বিরতি হলেও এই সময়ে টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট সবই খেলেছে বাংলাদেশ এবং ঘুরেফিরে অল্প কয়েকজন ক্রিকেটারই সব সংস্করণেই খেলেন তাই শুধুই ওয়ানডে দলে থাকার জন্য দীর্ঘদিন অনেকে বাইরে ছিলেন এই যুক্তিও ধোপে টেকে না। মার্চে সবশেষ ওডিআই খেলা হলেও এরপর ৬ মে পর্যন্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলোতেও খেলেছেন অনেক ক্রিকেটার, তারপরও এই অজুহাত যেন ব্যাঙের সর্দি!

মুশফিক চোটের কারণে এই সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন। আজ একাদশে তাই একটি পরিবর্তন নিশ্চিত। জাকের আলি অনিক হয়তো চলে আসবেন উইকেটরক্ষক হিসেবে, সেই সঙ্গে নিচের দিকে ব্যাটিংয়ে খানিকটা ভরসা জোগাবেন বলেও দাবি করা হয়। ১৯টা টি-টোয়েন্টি আর ১খানা টেস্ট খেললেও এই দাবির পক্ষে খুব জোরালো প্রমাণ জাকের এখনো রাখতে পারেননি। ওয়ানডে দলে এখনো সুযোগ পাননি জাকের, হয়তো হয়ে যাবে আজই। মুশফিক না থাকা নিয়ে মিরাজের আফসোস, ‘এটা তো অবশ্যই আমাদের জন্য দুঃখজনক। মুশফিক ভাই যে ইনজুরি হয়েছেন। উনি দলের ভেতর কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা সবাই জানি। কারণ তিনি যেভাবে ক্রিকেট খেলেন, দেশকে সার্ভিস দিয়ে গেছেন এটা অসাধারণ ছিল।’ অনেক ব্যাখ্যা অনেক কারণ দর্শানোর পরও ১২০-২ থেকে ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই আসলে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না, তেমনি মিরাজ যখন বলেন পরের দুটো ম্যাচ জিতে সিরিজ জেতা সম্ভব সেটাকেও স্রেফ কাগুজে সম্ভাবনাই মনে হয়। কারণ স্রেফ ম্যাচ সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের এই দলটা ব্যাটিং ও বোলিং দক্ষতা এবং চাপ নেওয়ার সামর্থ্য, কোনো দিকেই আফগানদের কাছাকাছিও নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত