আজ থেকে ছয় বছর আগের কথা। ইউএস ওপেনের ফাইনালে দমিনিক তিমের বিপক্ষে প্রথম দুই সেট জিতেও হাতের মুঠো থেকে ট্রফি ফসকে যেতে দেখেছিলেন আলেকজান্ডার ভেরেভ। সেদিন রানার্সআপ ট্রফি হাতে নিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে নিজের দলকে তিনি কথা দিয়েছিলেন ‘আশা করি একদিন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে ওই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরব।’
অবশেষে নিউ ইয়র্কে নিজের সেই স্বপ্ন সত্যি করলেন ২৯ বছর বয়সী জার্মান তারকা। গত রবিবার ফ্লাশিং মেডোসে স্বাগতিক আমেরিকার ফেভারিট ও অষ্টম বাছাই বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (২), ৫-৭, ৬-২ সেটে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা নিজের করে নিলেন ভেরেভ। আর এর মাধ্যমেই ঘুচল আজ থেকে ছয় বছর আগের সেই বেদনাদায়ক স্মৃতির জট।
এ বছর জেরেভের গ্র্যান্ড স্ল্যামের পথটা মসৃণ ছিল না। জুনে রোলাঁ গারোঁতে ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর ট্রফি জেতার আগে তিনি তিনটি বড় ফাইনাল হেরেছিলেন। এবারের ইউএস ওপেনে শীর্ষ বাছাই হিসেবে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি তার। প্রথম রাউন্ডেই লোরেনজো সোনেগোর কাছে হেরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, যখন তিনি হারের ঠিক দুই পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডেও কুয়েন্টিন হ্যালিসের বিপক্ষে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে কষ্টার্জিত জয় পান। তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরে প্রথমবার গ্র্যান্ড সøাম ফাইনালে ওঠা শেলটনকে ফাইনালে প্রায় একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েই ট্রফি নিশ্চিত করেন তিনি।
এই জয়ের ফলে বোরিস বেকারের (১৯৮৯) জার্মানির দ্বিতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেন জয়ের গৌরব অর্জন করলেন ভেরেভ। এ ছাড়া ওপেন এড়াতে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে নিজের প্রথম দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি জেতার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে নিয়ে এক আবেগঘন ভাষণে ভেরেভ স্মরণ করেন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো এবং তার মায়ের অবদানকে। তিনি জানান, তার মা ইরিনা কখনো গ্যালারিতে বসে সরাসরি তার ম্যাচ দেখেন না, তবুও তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি তার মা, “যখন আপনার চার বছরের সন্তান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় এবং চিকিৎসকরা জানান যে, খেলাধুলা বা স্বাভাবিক জীবন তার জন্য অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাবে তখন একজন মায়ের পক্ষেই কেবল এমন দৃঢ় মনোবল দেখানো সম্ভব। তিনি সেদিন চিকিৎসকের রুম থেকে বেরিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে যা হতে চায়, সে তাই হবে। এই রোগ আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।’ আজ আমি যা কিছু অর্জন করছি, তার পেছনে আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।”
পাশাপাশি তিনি তার দল এবং ভাই মিশা ভেরেভকে ধন্যবাদ জানান, যিনি কোর্টের পাশ থেকেই ভেরেভকে ম্যাচ জয়ের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ ম্যাচ পয়েন্টে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরেও তীব্র মনোযোগের কারণে ভেরেভ নিজে বুঝতে পারেননি যে, তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছেন।
ট্রফি, ৫৫ লাখ মার্কিন ডলারের চ্যাম্পিয়ন প্রাইজমানি ছাড়াও এই জয় র্যাংকিংয়ের দুনম্বরে তুলে এনেছে ভেরেভকে। চলতি বছর গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টগুলোতে ২৫-২ এর দুর্দান্ত রেকর্ড গড়ে ভেরেভ বুঝিয়ে দিলেন যে, আধুনিক টেনিসের রূপ বদলানো এই যুগে তিনি শুধু সাময়িক আলো ছড়াচ্ছেন না, বরং দীর্ঘমেয়াদে টেনিস সাম্রাজ্য শাসন করার জন্যই প্রস্তুত।