শিশু মুনতাহার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল

  • আজ রবিবার ভোরে শিশু মুনতাহার লাশ উদ্ধার করা হয়
  • শিশু মুনতাহাকে তারই গৃহশিক্ষিকা মার্জিয়া আক্তার খুন করেছেন
  • এই ঘটনায় গৃহশিক্ষিকা, তার মা ও নানি আটক
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনকে (৬) তারই গৃহশিক্ষিকা খুন করেছেন। মুনতাহা হত্যায় জড়িত অভিযোগে গৃহশিক্ষিকা মার্জিয়া আক্তার, তার মা আলিফজান ও না কুতুবজানকে পুলিশ আটক করেছে। মার্জিয়াকে গতকাল শনিবার বিকালে এবং আলিফজান ও কুতুবজানকে আজ রবিবার (১০ নভেম্বর) আটক করা হয়।

ওই গৃহশিক্ষিকার বাড়ি মুনতাহাদের বাড়ির পাশেই। এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করা মার্জিয়া শিশু মুনতাহার বাড়িতে গিয়ে তাকে পড়াতো। মার্জিয়ার মা ও নানী ভিক্ষা করেন। সরকারি খাস জমিতে এলাকার লোকজনের সহায়তায় নির্মিত একটি ঘরে তারা বসবাস করেন। কানাইঘাট থানা পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর আজ রবিবার ভোরে শিশু মুনতাহার লাশ উদ্ধার করা হয়। ভোর ৪টার দিকে মার্জিয়ার মা আলিফজান বাড়ির পাশের একটি গর্ত থেকে মুনতাহার লাশ তুলে তা পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলার সময় স্থানীয় আবদুল ওয়াহিদ নামের এক ব্যক্তি তা দেখে ফেলেন। তিনি চিৎকার দিলে প্রতিবেশি আরেকজন ছুটে আসেন। তাদেরকে দেখে আলিফজান লাশ পুকুরপাড়ে ফেলে দৌড় দেন। তখন তারা ধাওয়া করে আলিফজানকে আটক করে কানাইঘাট থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

শিশু মুনতাহার লাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গলায় রশি বাঁধা ছিল। তার মাথা অনেকটা তেথলানো এবং পোড়া দাগের মতো রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত শিশু মুনতাহা কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। গত ৩ নভেম্বর নিজ বাড়ি থেকে মুনতাহা নিখোঁজ হয়েছিল।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল জানান, মুনতাহা হত্যায় তার গৃহশিক্ষিকা মার্জিয়া আক্তার, মার্জিয়ার মা ও নানীকে আটক করা হয়েছে। মার্জিয়া ও তার মা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা এখনো স্পষ্ট নয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ফুটফুটে শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনের লাশ উদ্ধারের খবরে রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই আশেপাশের শত শত নারী, পুরুষ, শিশু মুনতাহাদের বাড়িতে ছুটে যান। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুনতাহার মা—বাবাসহ পরিবারের লোকজনের আহাজারিতে উপস্থিত সবার চোখেই জল আসছে। ক্ষুব্ধ লোকজন মার্জিয়াদের ঘর ভেঙে তা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন।

গত ৩ নভেম্বর বাবা শামীম আহমদের সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিলে যায় মুনতাহা। সকালে বাড়ি ফিরে খেলাধুলায় মগ্ন ছিল শিশুটি। বিকালের দিকে তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও মুনতাহাকে না পেয়ে এলাকায় মাইকিংসহ আশেপাশের এলাকায় খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু কোথায়ও খোঁজ না পেয়ে কানাইঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মুনতাহার বাবা। ফুটফুটে হাসিমাখা মুখের শিশু মুনতাহার ছবি দিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুনতাহার খোঁজ চেয়ে পোস্ট করেন। দ্রুত বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুনতাহার প্রবাসী ভাই তার বোনের সন্ধানদাতার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়ির পাশেই মিলল মুনতাহার লাশ।

মুনতাহার বাবা শামীম আহমদ আহাজারি করে বলেন, আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। আর যেনো কোনো মা—বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত