এমপি হওয়ার পর ১৫ বছরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন শাহরিয়ার

  • ‘ভদ্রছেলে’ থেকে কূটরাজনীতিক
  • প্রতিপক্ষের প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতনের অজস্র অভিযোগ
  • আ.লীগের নেতাকর্মীদেরও নির্যাতনের বহু ঘটনা
  • গুঞ্জন ছড়িয়েছে তিনি রাশিয়ায় চলে গেছেন
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০১:০০ পিএম

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসন থেকে টানা চার মেয়াদের সংসদ সদস্য (এমপি)। শাহরিয়ার আলম যখন সংসদ সদস্য হননি তখন পরিচিত ছিলেন ব্যবসায়ী হিসেবে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে বিভিন্ন অঙ্গনে পদচারণার সূত্রে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারের মতো এমপি হন। যদিও এর আগে রাজনীতিতে তার ছিল না কোনো সম্পৃক্ততা। প্রথমবার যখন এমপি হন তখন শাহরিয়ার আলম নিজ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পান ‘ভদ্রছেলে’ হিসেবে। তার নির্বাচনী এলাকায় ‘ভদ্রছেলে’ এমপি হয়েছে এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দিন যত গেছে শাহরিয়ার আলমের সেই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তত ম্লান হতে থাকে। রাজনীতির মাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় নানা কূটকৌশল আর প্রতিহিংসার রাজনীতি তার সেই ‘ভদ্রছেলে’ উপাধিটাই গিলে খেয়েছে। উল্টো গত কয়েক বছরে প্রতাপশালী ‘কূটরাজনীতিক’, ‘অহংকারী’ ও ‘হিংস্র’ খেতাবও তাকে দেন বাঘা-চারঘাটের অনেকেই।

প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় শাহরিয়ার আলমের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত কমতে থাকে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট, অপরাজনীতি ও প্রতিপক্ষের প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতনের মতো অভিযোগ উঠতে থাকে অহরহ। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাই শুধু নয়, নিজ দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও নির্যাতনের ভূরি ভূরি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এলাকার লোকজনের ভাষ্য, শাহরিয়ার আলম শুধু রাজনীতিতেই যে ‘ভদ্রছেলে’র তকমা হারিয়েছেন তা নয়, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও তিনি তার আগের অবস্থান হারিয়েছেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন সংসার পাতেন আরেক নারীর সঙ্গে, যা নিয়ে এলাকা জুড়ে পড়েন জোর সমালোচনার মুখে।

নিজ দলে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা দেখলেই দমন : নিজের নির্বাচনী আসনে শাহরিয়ার আলম তার বিকল্প কোনো নেতৃত্ব তৈরি হতে দিতে চাননি শুরু থেকেই। তিনি এমপি হওয়ার পর থেকেই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হতে শুরু করেন। চারঘাট-বাঘার আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক এমপি রাহেনুল হক ও তার অনুসারীরা যাতে কোনোভাবেই এলাকায় মাথাচাড়া দিতে না পারেন, সেজন্য যখন যা প্রয়োজন তাই করেছেন। এলাকায় তার কথায় ছিল শাসন। কেউ বিপক্ষে গেলেই নানানভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এলাকাবাসী বলছে, শাহরিয়ার আলমকে প্রথমে সাধারণ মানুষ চিনতই না। এলাকায় তিনি থাকতেন না। এমপি হওয়ার জন্যই এলাকায় আসেন। এলাকার মানুষ প্রথমে তাকে ‘ভদ্রছেলে’ হিসেবেই গ্রহণ করেছিল। কিন্তু গত ১৫ বছর বেশি সময় ধরে তিনি যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, তাতে আর কারও কাছে সম্মান পান না। এমনকি নিজ দলের সাধারণ কর্মীরাও তাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।

বিরোধী দলকে কোণঠাসা : চারঘাটের বাসিন্দা এবং রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ বছরের পর বছর শাহরিয়ার আলমের নির্দেশ ও ইন্ধনে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একের পর এক মামলার শিকার হয়েছেন চাঁদসহ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। গত ১৫ বছরের বেশিরভাগ সময় বাঘা ও চারঘাটে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। এ সময়ের মধ্যে আবু সাঈদ প্রায় সাত বছর কারাবন্দিই ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে প্রায় ৮০টি।

বিভক্তি তৈরি করে নিজ দলে অবস্থান ধরে রাখা : বাঘা-চারঘাটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করে নিজের অবস্থান ধরে রাখার কাজটি সূক্ষ্মভাবেই করেছেন শাহরিয়ার আলম। সাবেক এমপি রাহেনুল হক, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাবলু, বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজ উদ্দিন নানানভাবে শাহরিয়ার আলমের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমনকি দীর্ঘদিন তারা কারাগারেও কাটিয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে।

শাহরিয়ার আলম রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বসেন। এরপর থেকে সব পর্যায়ে নিজের পছন্দের লোকজনকে কমিটিতে আনতে থাকেন। জেলা আওয়ামী লীগেও বিভক্তি বাড়াতে তিনি নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। জেলার একাধিক এমপিকেও নিজের বলয়ে নিয়ে দলে বিভক্তি তৈরি করেন। যার জেরে জেলা আওয়ামী লীগ বছরের পর বছর সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে রয়েছে।

তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলী। ২০১২ সালে বিভিন্ন অভিযোগে শাহরিয়ার আলমের লোকজনের করা মামলায় তিনি জেল খাটেন। আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে এখনো মামলা রয়েছে একাধিক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলিল লেখক সমিতির চাঁদাবাজির জেরে গত ২২ জুন বাঘায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিহত হন। ওই ঘটনায় শাহরিয়ার আলমের অনুসারী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান মামলা করেন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজুল ইসলামসহ ৪৫ জনকে আসামি করে। এ মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয় মেরাজকে।

লুটপাটের অভিযোগ : মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে এখন বিপুল অর্থ-সম্পদর মালিক শাহরিয়ার আলম। নিজ নির্বাচনী এলাকা চারঘাট-বাঘা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার রয়েছে আবাদি জমি, বিভিন্ন ধরনের বাগান, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। যেসবের অর্থমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময় চারঘাট-বাঘায় হঠাৎ করেই আবির্ভূত হন শাহরিয়ার আলম। গার্মেন্টস ব্যবসায়ী পরিচয়ে কিছু খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন এলাকার মানুষের মধ্যে। এরপর অনেকটা কাকতালীয়ভাবে আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে ২০০৮ সালের এমপি নির্বাচনে মাঠে নামেন। সেবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল সব মিলিয়ে ২ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিপরীতে বিভিন্ন কোম্পানির নামে ঋণ ছিল ৭৬ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৪২২ টাকা। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অস্থাবর সম্পদ দেখান ৮৯ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার ৯৭৩ টাকার। আর নিজের কোম্পানির নামে থাকা ৭৬ কোটি টাকার ঋণও পরিশোধ দেখান। অর্থাৎ এ সময়ে তিনি অন্তত ১৬৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় শাহরিয়ারের দুই ছেলের অস্থাবর সম্পদ ছিল মাত্র ৭৯ লাখ ১০ হাজার ৬৬২ টাকা। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরেই তাদের অস্থাবর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ১ হাজার ৪৮২ টাকা।

এলাকার লোকজন বলছেন, নিজ নির্বাচনী এলাকা চারঘাটে পোশাক কারখানা স্থাপনসহ নানা লোভ দেখিয়ে শাহরিয়ার স্বল্পমূল্যে কিনেছেন কোটি কোটি টাকার জমি। চারঘাট-বাঘা মহাসড়কের পাশে মেরামতপুর এলাকায় লিলি সিনেমা হল ২০১০ সালে বন্ধ হয়ে গেলে হলমালিকরা ভবনসহ জমিটি বিক্রির উদ্যোগ নেন। ঢাকার এক সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হলটি কিনে আধুনিকীকায়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ২০১৪ সালে শাহরিয়ার আলম প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর সিনেমা হলের জায়গাটি কিনে সেখানে কারখানা গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। সিনেমা হলের ৩৭ শতক জমি ও ভবন কোটি টাকায় কেনার মানুষ থাকলেও কারখানা করার কথা বলে হলমালিকদের কয়েকজন অংশীদারকে রাজি করান শাহরিয়ার আলম। পরে বাকি অংশীদারদের চাপে ফেলে মাত্র ৫০ লাখ টাকায় ৩৩ শতক জমি ও ভবনসহ সিনেমা হল কিনে নেন। কিন্তু ১০ বছর অতিবাহিত হলেও সেখানে কোনো পোশাক কারখানা হয়নি।

২০২২ সালে চারঘাট সদরে উপজেলা ভূমি অফিসের পূর্ব পাশে বিশ্বনাথ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি কেনেন শাহরিয়ার আলম। এ ছাড়া বাঘা, লালপুর ও ঈশ্বরদীতে নামে-বেনামে শাহরিয়ার আলমের আরও জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। বাঘা উপজেলার পাশর্^বর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার কন্যাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শাহরিয়ার আলম। এরপর প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মাকে ২০২১ সালে মেয়র বানান শাহরিয়ার আলম। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় স্ত্রীকে লালপুরে কয়েক কোটি খরচ করে বাড়ি করে দেন। ঢাকার গুলশানে ৩ হাজার ৬০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাটও উপহার দেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে। অন্যদিকে একই সময়ে গুলশানে নিজের নামে দুটি ও ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। হলফনামায় নিজের নামে কৃষি ও অকৃষি জমি দেখিয়েছেন ৫১ বিঘা। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তখন শাহরিয়ার আলমের স্থাবর কোনো সম্পদ ছিল না।

২০২০ সালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গোগ্রাম ইউনিয়নের বসন্তপুর মোড়ের পাশে একই প্লটে ৪০ বিঘা জমি কেনেন শাহরিয়ার আলম। জমির মালিক ছিলেন বাঘা উপজেলার বাঘা পেট্রোলপাম্পের মালিক গোলাম মোস্তফা। তার অভিযোগ, মূল্য পরিশোধ না করে শাহরিয়ার আলম প্রতারণার মাধ্যমে দখল নিয়েছেন সেই জমি। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌধুরীহাট এলাকায় ২০১০ সালে ২৫ বিঘা জমি কেনেন শাহরিয়ার। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জেও ২০১৭ সালে ১৩ বিঘা জমি কিনে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে খামারবাড়ি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর এসব জমি ও অর্থসম্পদ গড়ে তোলার নেশায় শাহরিয়ার আলম তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছেন। তিনি তার নিজস্ব লোক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন টিআর-কাবিখাসহ সরকারি সব অনুদান ও প্রকল্প। এমনকি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগেও করেন বাণিজ্য। চাকরি, বদলিসহ বিভিন্ন কাজেও নেন মোটা অঙ্কের টাকা। প্রতিমন্ত্রীর তহবিলে টাকা না দিলে কারও টিআর-কাবিখা বা সরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ ছিল না।

অভিযোগ রয়েছে, বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দলিল লেখক সমিতির চাঁদাবাজির সুযোগ করে দেন শাহরিয়ার আলম। বছরের পর বছর পকেট কমিটি গঠন করেন। তার করে দেওয়া কমিটি মাসে অন্তত অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় করত। শাহরিয়ার আলম সেই টাকার একটা অংশ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিতর্কিত কমিটির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষ মাঠে নামলে গত জুন মাসে সংঘর্ষ হয় দুপক্ষে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল নিহত হন।

শাহরিয়ার আলম মোট চারবার এমপি হয়েছেন। দশম ও একাদশ সংসদে দুবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দ্বাদশ সংসদের এমপি হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গত ৯ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ার আলম, তার সাবেক ও বর্তমান স্ত্রী এবং ছেলের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট থেকেই পলাতক শাহরিয়ার আলম। তার বাঘার আড়ানী পৌরসভার তিনতলা বাড়িতে এখন সুনসান নীরবতা। স্থানীয়রা বলছেন, তারা জানেন না শাহরিয়ার আলম কোথায়। তবে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, রাশিয়ায় চলে গেছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত