বিটিএমএ সভাপতি

লুটপাটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারও সাজা হয়নি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:২২ পিএম

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, ব্যাকগুলোতে যখন লুটপাট হয়েছে তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের যারা অডিট করেছেন, তারা এখনও খুব ভালো আছেন। তাদের কোনও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়নি।

আজ শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাইভেট সেক্টর আউটলুক: প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক বাণিজ্য সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

রাসেল বলেন, আমাদের ব্যবসা বিকাশ আর নগদ দিয়ে হবে না। ব্যবসা করতে হয় ব্যাংক চ্যানেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অনিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনও ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সের আন্ডারে অপারেট করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে মনিটর করে, অডিট করে। আমাদের অ্যাকাউন্টস চেক করে, ঠিক আছে কিনা। যখন লুটপাট হয়েছে তখন যারা অডিট করেছেন, তারা এখনও খুব ভালো আছেন। তাদের কোনও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা বলছেন, তিন মাসে কিছু করার নেই। আর আমি বলছি, এ তিন মাসে এসব কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত ছিল। সাজা হলে পরবর্তীতে যারা অডিট করতে যাবেন তারা খারাপ অডিটকে ভালো অডিট বানাবেন না।

তিনি বলেন, ব্যাংকে যারা লুটপাট করেছে তাদের ভর্তুকি আমরা কেন দেব? প্রকৃত ব্যবসায়ী আমরা। কিন্তু ভর্তুকি দেব আমরা আর চুরি করবা তোমরা। বাংলাদেশ ব্যাকের কর্মকর্তারা লুটপাটে সহযোগিতা করবে, আর পরে ভালো থাকবে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটা কর্মকর্তারাও কোনও সাজা হয়নি, তাদের দায়বদ্ধতার মধ্যে আনা হয়নি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অনিয়ম-দুর্নীতি ২-৪ মাসে স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তবে কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করেছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ক্ষয় হয়ে যেতে শুরু করা দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো খুবই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। তবে এমন কোনও খাত নাই যেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। গত সরকারের রেখে যাওয়া এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ২-৪ মাসে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে কেউ আর টাকা পাচার করতে পারবে না।

ব্যবসায়ী নেতাদের বেসরকারি খাতে ঋণের সুদ কমানোর দাবির প্রেক্ষিতে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নীতিসুদ হার আপাতত বাড়ানো হবে না। বেসরকারি খাতে যেন ঋণ প্রবাহ কমে না যায়, সেদিকে নজর সরকার রাখছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনবিআরে সংস্কার হচ্ছে। রাজস্ব আদায়কারী এবং আইন-প্রণেতা দুই ধরনের কর্মকর্তাদের আলাদা করা হবে। এ সময় এলডিসি গ্রাজুয়েশন হলে পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফিকির সভাপতি জাভেদ আখতার বলেন, আমরা যখন বিদেশি বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করি তিনটি বিষয় দেখি। প্রথমত- দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা, ধারাবাহিকতা এবং সর্বশেষ সক্ষমতা। এই তিনটি বিষয় বিনিয়োগের সময় দেখি। তারপরও আরও তিনটি বিষয় আমরা গুরুত্ব দেই- ওয়ান স্টপ, অনলাইন এবং ওয়ানস অনলি।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে আমার একটি পণ্য ছাড়ানোর জন্য ১৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। এটি ইউনিলিভারে বলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্য ব্যবসায়ীরা তা দিতে পারবে না।

আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে জাভেদ আখতার বলেন, আইশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আর আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে যদি আমরা এখনই যাই আমাদের দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে হতে পারে। ভালো কর্ম পরিবেশ তৈরি করতে হবে, পাশাপাশি অন্তর্বর্তীমূলক কর্মযজ্ঞ রাখতে হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি আবদুল হাই সরকার বলেন, ৫ আগস্টের পর সমস্যাগুলো ঠিক রাখার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবস্থা এখন এমন হয়েছে আমাদের শিক্ষিত সমাজ যে যেভাবে পারছে দাবি আদায়ের জন্য হাজির হচ্ছে। এখন অবশ্য দাবি আদায়ের সময় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত