ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস এডান আলেকজান্ডার নামে ২০ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি-আমেরিকান জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে এডান নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তার মুক্তি নিশ্চিতের অনুরোধ করেন।
জিম্মি এডান আলেকজান্ডারের মা ইয়েল আলেকজান্ডার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সাড়ে তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে তার ছেলেকে ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিল এবং অন্ধকার জায়গায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
রয়টার্স জানায়, জিম্মি এডান নিজের পরিচয় দিয়ে পরিবার, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখেন।
জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে তেল আবিবের এক সমাবেশে তার মা বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের আশা যোগায়, কিন্তু এটি এটাও দেখায় যে এডান এবং অন্যান্য জিম্মিদের জন্য এটি কতটা কঠিন এবং তারা তাদের উদ্ধারের জন্য আমাদের জন্য কতটা চিৎকার করছে এবং প্রার্থনা করছে।’
গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তির জন্য হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে ইসরায়েলি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানোর আগে তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয়, প্রিয় এডান, আমরা তোমাকে বেদনাদায়কভাবে মিস করছি।’
এদিকে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ভিডিওটি ছিল নিষ্ঠুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং তিনি একটি ফোন কলে আলেকজান্ডারের পরিবারকে বলেছেন— ইসরায়েল জিম্মিদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার সময় সৈনিক আলেকজান্ডারকে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এখনো যোগাযোগের বাইরে থাকা ১০১ জন বিদেশি ও ইসরায়েলি জিম্মির প্রায় অর্ধেকই জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর উপায় খুঁজতে হামাস নেতারা মিশরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে কায়রোতে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ওই লক্ষ্যের দিকে প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার কথা জানানোর পর নতুন এই খবর এলো।
আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বাইডেন প্রশাসন বলেছে, হামাসের হাতে জিম্মি মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি নিশ্চিত করতে তারা চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছে।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র শন স্যাভেট বলেন, ‘জিম্মিদের মুক্তি, যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানোর চুক্তি সম্পাদনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আমাদের রয়েছে। এই চুক্তিটি এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে।’
জিম্মি পরিবার ফোরাম বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ট্রাম্প উভয়ের প্রশাসনকে জিম্মি মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়, জিম্মিদের জীবন একটি সুতোয় ঝুলছে।
৩০ বছরের বান্ধবীকে নিয়ে রেড কার্পেটে হাঁটলেন ৬৪ বছরের অভিনেতা
আলেপ্পোর দক্ষিণে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে রুশ বিমান হামলা, নিহত ৪
আ. লীগের লুটপাটের চিত্র পাঠ্যবইয়ে আসা উচিত মনে করেন ড. ইউনূস