সাবেক এমপি জ্যাকব

ছিল নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী, লুটপাট-জমি দখল-কমিশন বাণিজ্য ছিল মূল কাজ

  • ক্ষমতা ধরে রাখতে তৈরি করেছিলেন ‘জ্যাকব সেনা’ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী
  • জ্যাকবকে ২০% কমিশন না দিলে ভোলা-৪ আসনের কোনো ঠিকাদারই কাজ পেতেন না
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২৬ পিএম

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছিলেন দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। গত ১৫ বছরে এ আসনে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন তিনি।

ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত রাখতে তিনি তৈরি করেছিলেন ‘জ্যাকব সেনা’ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, জমি দখল, কমিশন-বাণিজ্য ছিল তার অনুসারীদের পেশা। 

এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ, শিক্ষা প্রকৌশল প্রভৃতি সরকারি দপ্তরের নথিতে দেখা যায়, এসবের বিভিন্ন প্রকল্পের অধিকাংশ বরাদ্দ চলে যেত ভোলা-৪ আসনে অর্থাৎ চরফ্যাশন ও মনপুরায়। উন্নয়ন প্রকল্পের ২০ শতাংশ কমিশন যেত এমপি জ্যাকবের পকেটে। সরকারদলীয় বা বিরোধীদলীয় যেই হোক না কেন, ২০ শতাংশ কমিশন না দিলে ওই আসনের কোনো ঠিকাদারই কাজ পেতেন না।

মেসার্স ইলিয়াছ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. বাবলু জানান, ‘উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা ২০ শতাংশ কমিশনের টাকা জোগাড় করে জ্যাকবের কাছে পৌঁছে দিলেই মিলত কাজ।’

টেন্ডারবাজি ও কমিশন-বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে ২০২০ সালে ভোলার এলজিইডি ভবন ঘেরাও করে মিছিল এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয় ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশন। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হলেও শেখ পরিবারের প্রভাবশালী এক নেতার (শেখ ফজলে নূর তাপস) ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ায় তার প্রভাবে ২০২১ সালে দুদকের অনুসন্ধান থেকে রেহাই পান জ্যাকব।

এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন জ্যাকব। জমি দখল করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নিয়োগ-বাণিজ্য, ম্যানগ্রোভ বনের কাঠ কেটে ইটভাটায় পোড়ানো, দখল করা জমিতে খামার ও রিসোর্ট নির্মাণ, জেলেদের ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ, দলের মনোনয়ন-বাণিজ্য প্রভৃতি উপায়ে হাতিয়ে নেন কয়েক হাজার কোটি টাকা। পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা দুবাই ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জ্যাকবের বার্ষিক আয় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামায় ছিল মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার হাতে নগদ ৫ লাখ টাকার কম দেখালেও ১৫ বছরের ব্যবধানে তা ১ কোটি ৮১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

২০০৮ সালে স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈতৃকসূত্রে ঢাকার দুটি ফ্ল্যাট ও চরফ্যাশনে একটি বাড়ি দেখানো হলেও এখন পৈতৃক সম্পত্তির বাইরে তার স্থাবর সম্পদ ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ১৭৪ টাকার হয়েছে। তার স্ত্রীর নামেও সম্পদ বেড়েছে। এছাড়াও জ্যাকবের রয়েছে বিলাসবহুল রিসোর্ট, গরুর খামার, মাছের খামার ও কৃষিজমি।

হলফনামার বাইরেও রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৩টি ফ্ল্যাট, গুলশানে ১টি বাড়ি, গাজীপুরে ১৫০ একর জমির উপর বিলাসবহুল খামার বাড়ি ও  নরসিংদীতে ১০০ একর জমির উপর মৎস্য খামার রয়েছে জ্যাকবের। 

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও জানা সম্ভব হয়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত