প্রতিদিন দু-বেলা সময় বার করে হাঁটতে যাচ্ছেন। কয়েক মিনিটের হাঁটাহাঁটিতে ঘাম ঝরতে দেখে ধরেই নিয়েছেন, ওজন কমছে। জিমে গিয়ে লোহালক্কড় নিয়ে টানতে রাজি নন, কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। সেক্ষেত্রে হাঁটাচলা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আবার অনেকের ওজন একেবারে হাতের মুঠোয়। তা সত্ত্বেও ছিপছিপে চেহারা ধরে রাখতে নিয়মিত কিছুটা সময় ব্যয় করে হাঁটতে যান। তবে বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে, একটানা শুধু হেঁটে গেলে হবে না। হাঁটার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যদি সঠিক পদ্ধতিতে হাঁটা না হয়, তাহলে তার সুফল পাওয়া যায় না। এখানে কিছু নিয়ম দেওয়া হলো যা হাঁটার সময় মেনে চলা উচিত:
১. সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা
মাথা সোজা এবং দৃষ্টি সামনে রাখুন। কাঁধ শিথিল রাখুন এবং স্বাভাবিকভাবে হাত দোলান। পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটি স্পর্শ করুন এবং পায়ের পাতার সাহায্যে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান।
২. সময় নির্ধারণ করুন
বেরোনোর সময় মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন, ঘড়ি ধরে পাক্কা ৩০ মিনিট একটানা হাঁটবেন। কিন্তু ১৫ মিনিট হাঁটতেই শরীরে ক্লান্তি চলে আসছে কিন্তু দুর্বল লাগলেও, হাঁটা থামালেন না। তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। শরীর যদি সঙ্গ না দেয়, তা হলে বাড়তি পরিশ্রম করেও আদতে কোনও উপকার হয় না।প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটুন। সকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটলে বেশি উপকার পাওয়া যায়, কারণ তখন বাতাস শীতল এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ থাকে।
৩. গতি নিয়ন্ত্রণ
হাঁটার লক্ষ্য যদি হয় মেদ ঝরানো হয়, তা হলে পায়ের গতি বৃদ্ধি করতেই হবে। ধীর পায়ে হাঁটলে ওজন কমানো কঠিন। যত দ্রুত হাঁটবেন, তাতে কম সময়ে অনেকটা পথ পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব। জোরে হাঁটার অভ্যাস যদি এক বার হয়ে যায়, তা হলে ওজন ঝরানো অনেক সহজ হবে।ধীরে ধীরে শুরু করুন এবং আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী গতি বাড়ান। খুব দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করবেন না, কারণ এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
৪. উপযুক্ত জুতো ব্যবহার
আরামদায়ক এবং হালকা জুতো পরুন যাতে পায়ে চাপ না পড়ে।
৫. খালি পেটে হাঁটবেন না
হাঁটার আগে হালকা কিছু খাবার খান, যেমন একটি কলা বা বাদাম।
৬. সঙ্গে থাকুক পানি
হাঁটার আগে এবং পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। কয়েক পা একটু জোরে হাঁটলেই ঘাম ঝরতে শুরু করে। শরীর থেকে পানি বেরিয়ে আর্দ্রতার অভাব দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিলে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সেই অবস্থায় হাঁটলে সমস্যা হতে পারে। তাই হাঁটতে বেরোলে সঙ্গে করে অতি অবশ্যই পানির বোতলটি রাখা জরুরি।
৭. দূরত্ব নির্ধারণ করুন
প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। দিনে ১০,০০০ ধাপ হাঁটা একটি ভালো লক্ষ্যমাত্রা।
৮. সতর্ক থাকুন
যদি হাঁটার সময় ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক নিয়মে হাঁটলে এটি আপনার শরীরের ফিটনেস, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
চুল পড়া বন্ধ করবে আদার তেল, জানুন বানানোর নিয়ম