দুশোর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন আইসিসি আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে থাকা প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি শরফুদ্দৌলা ইবনে শহিদ সৈকত। গত বছর এলিট প্যানেলভুক্ত হওয়ার পরপরই দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, বড় ম্যাচগুলোতেও হরহামেশাই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গেছে তাকে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে নতুন আম্পায়ারদের একজন হওয়া সত্ত্বেও তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন বৈশ্বিক মহলে। তবে এক মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালণের সময় তার নেওয়া সাহসী এক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পুরো ক্রিকেটবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সৈকত। উত্তেজনা আরও জমে উঠেছে কেননা আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালিস্ট ভাগ্য নির্ধারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ সিডনি টেস্টে মাইকেল গফের সঙ্গে মাঠেই দেখা যাবে তাকে।
অ্যাশেজের পর পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তেজনাকর টেস্ট সিরিজের তকমা দেওয়া হয় অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিকে। ১৮৪ রানে মেলবোর্ন টেস্ট জিতে ভারতকে কোনঠাসা করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ওই টেস্টেই প্রথমবার সৈকত বন্দনায় মেতে ওঠে ভারতীয়রা। ঘটনা ভারতের প্রথম ইনিংসের ১১৯তম ওভারে প্যাট কামিন্সের বল মোহাম্মদ সিরাজের ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ে স্লিপে। বল সরাসরি স্লিপে থাকা স্টিভ স্মিথের কাছে গেছে নাকি মাটি ছুঁয়েছে- সে বিষয়ে মাঠের আম্পায়ার মাইকেল গফ নিশ্চিত হতে পারেননি। ডাক পড়ে তৃতীয় আম্পায়ার সৈকতের। তিনি মাত্র দুইবার রিপ্লে দেখেই জানিয়ে দেন, বল মাটি স্পর্শ করেনি। তাই সিরাজ আউট নন। তৃতীয় আম্পায়ার এত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত দেওয়ায় খুশি হতে পারেননি কামিন্স। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আম্পায়ারের কাছে রিভিউয়ের আবেদন করেন। কিন্তু দুই ফিল্ড আম্পায়ার গফ ও জোয়েল উইলসন সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। অটুট থাকে সৈকতের সিদ্ধান্ত।
কিন্তু শেষদিনেই সেই বন্দনা বিদ্বেষে রূপ নেয়। বিনা উইকেটে ভারত দ্বিতীয় সেশন কাটিয়ে দেওয়ার পর মনে হচ্ছিলো ড্রয়ের পথে এগোচ্ছে টেস্ট। তবে শেষ সেশনে দ্রুতই তিন উইকেট তুলে নেয় অজিরা। এর পরও একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। প্যাট কামিন্সের একটি বাউন্সারে পুল করতে গেলে কিপার ক্যারির গ্লাভসে জমে বলটি। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলে কামিন্স নেন রিভিউ। স্নিকোমিটারে আগে থেকেই স্পাইক দেখা যাচ্ছিলো। তাই প্রযুক্তির সাহায্যে পরিস্কার সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছিলো না। বার বার রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি গতিপথ পরিবর্তন করছে। এ জন্যই যশস্বীকে আউটের সিদ্ধান্ত দেন সৈকত। ৮৪ রানে বিদায় হন যশস্বী। তাতেই কপাল পুড়ে ভারতের। ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এর পর ভারতীয়দের রোষের মুখে পড়তে হয় সৈকতকে। কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার, রবিচন্দ্রন অশ্বিন কিংবা বিসিসিআই সহসভাপতি রাজিব শুক্লাও এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিষাদাগার করেন। ক্রিকেটবোদ্ধারা অবশ্য সৈকতের সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী’ বলে আখ্যা দেন। এ তালিকায় আছেন পাঁচবারের বর্ষসেরা আম্পায়ার সাইমন টফেল, রিকি পন্টিং, রবি শাস্ত্রী, সুরিন্দর খান্না এমনকি স্নিকো প্রযুক্তির উদ্ভাবক বিবিজি স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন ব্রেনান। সৈকতের সিদ্ধান্ত স্বাগত জানান খোদ ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাও।
বাংলাদেশের সৈকত এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে টেস্ট পরিচালনা করেছেন গত জানুয়ারিতে। টেস্ট ক্রিকেটে শামার জোসেফের নায়কোচিত আগমনী টেস্টে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন সৈকত। এবার আরও বড় মঞ্চে পরীক্ষায় নামবেন সৈকত। সেই সঙ্গে করবেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। ভারতের সঙ্গে সৈকতের প্রসঙ্গ জুড়ে থাকবে সিডনি টেস্টের পরেও। কারণ এ মাসেই ভারতের মাটিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সাদা বলের সিরিজেও আম্পায়ার থাকবেন সৈকত।
এবার গোপনে মার্কিন মুলুকে রোমান-দিয়া
নতুন বছরে নতুন বাফুফেতে নতুন রূপে ছোটন
শততম শিরোপার পথে আরও একধাপ এগোলেন জকোভিচ