যে দিনে প্রথমবার ছেলের খেলা দেখতে মাঠে এসেছিলেন শচীনের মা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৭ পিএম

বিশ্বকাপ জয়, বিদায়ী টেস্ট, আর মায়ের প্রথম মাঠে খেলা দেখা—এই তিনটি স্মৃতি ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের জীবনে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামকে দিয়েছে এক বিশেষ স্থান। গতকাল ওয়াংখেড়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শচীন ফিরে দেখলেন আবেগময় সেই মুহূর্তগুলো।

২০১১ সালের ২ এপ্রিল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শচীন টেন্ডুলকার ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলেন। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত এ স্টেডিয়ামেই।

২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলেন নিজের বিদায়ী টেস্ট। এই ম্যাচটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে আবেগপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ছিল। শচীন বলেন, ‘২৪ বছর ধরে দেশের হয়ে খেলার পরও আমার মা কখনো মাঠে গিয়ে আমার খেলা দেখেননি। কিন্তু সেই বিদায়ী ম্যাচে তিনি ওয়াংখেড়েতে উপস্থিত ছিলেন।’

মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে শচীন জানান, ম্যাচটি মুম্বাইয়ে আয়োজনের জন্য তিনি তখনকার বিসিসিআই সভাপতি শ্রীনিবাসনের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেন। কারণ, তার মায়ের শারীরিক অবস্থার কারণে দূরের কোনো ভেন্যুতে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিসিসিআই শচীনের অনুরোধ রক্ষা করেছিল, আর সেটাই তার জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

শচীন জানান, বিদায়ী ম্যাচে যখন তিনি ব্যাট করছিলেন, তখন বড় স্ক্রিনে তার মায়ের মুখ দেখানো হচ্ছিল। এটি তার জন্য দারুণ আবেগময় ছিল। তিনি বলেন, ‘শেষ ওভারের আগে দেখলাম স্ক্রিনে আমার মা, অঞ্জলী (স্ত্রী), আমার বাচ্চাদের দেখানো হচ্ছে। মনে হচ্ছিল ক্যামেরাম্যানরা আমার আবেগ নিয়ে খেলছে! আমি মনে মনে বলছিলাম, এটা কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যামেরাম্যান? এত আবেগ কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিশ্চিত করার জন্য!’

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম গত বছর ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। সেই সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শচীন তার স্মৃতির পাতাগুলো উল্টে দেখালেন। বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে বিদায়ী টেস্ট—ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম শচীন টেন্ডুলকারের ক্রিকেটীয় জীবনের এক অনন্য সাক্ষী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত