১৫ বছরে বিচার বিভাগের সংস্কার হয়নি— আনিসুল হককে বিচারক

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ মামলায় সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন আনিসুল হকবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক গত ১৫ বছরে বিচার বিভাগের দৈন্যদশা ও মামলা জটের চিত্র তুলে ধরেন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘বিচার বিভাগের যত ইম্প্রুভমেন্ট হয়েছে তা আমার করা।’

বিচারক বলেন, ‘ঢাকায় লক্ষাধিক এনআই অ্যাক্ট মামলা পরিচালনা করার জন্য মাত্র সাতটি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত রয়েছে, যা অপ্রতুল। অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারককে টিনসেড বিল্ডিংয়ে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করতে হয়। ১৫ বছরে বিচার বিভাগের তেমন কোনো সংস্কার হয়নি।’  

এসময় আনিসুল হক আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, ‘আমি আইনমন্ত্রী থাকাবস্থায় প্রতি বছর লোকবল নিয়োগের জন্য রিকুইজিশন দিতাম। আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য মাত্র ১৩ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ছিলো। বিচার বিভাগের যত ইম্প্রুভমেন্ট হয়েছে তা আমার করা। তবে আমার একটাই দুঃখ, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের জন্য আলাদা একটি ভবন করতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ, সামনে ভবন নির্মিত হবে। এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠবো।’

বিচারক আবারও বলেন, ‘সব কথা তো বলা যায় না। একটা টিভি সেন্টারের জন্য যে বাজেট সেই বাজেটও এই মন্ত্রণালয় পায়না। এছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য কাজ তেমন আগায় না। বিচার বিভাগের উন্নয়নে আমলাতন্ত্র একটা বড় বাধা। এখনো আমরা পুরনো আইন যেসব ব্রিটিশরা তৈরি করে দিয়েছিল সেসবের মধ্যে আটকে আছি। আইনগুলো আপডেট করা দরকার। দেওয়ানি কার্যবিধি এমন যে একটা দেওয়ানি মামলা দিয়ে ১০০ বছরও ঘুরানো যায়। সারাদেশে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক সিভিল মামলা চলমান। বিচারক মাত্র তিনশজন।’ 

 
  
আদালত আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১ জানুয়ারি আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি  করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত