তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যান প্রোগ্রামাররা। কারণ তারাই প্রোগ্রামটা লিখেন, ঠিক করে সেটাকে প্রকাশের ভাষা দেন। প্রোগ্রামার হতে হলে প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে। অনেক ভাষা আছে। কোনটা শিখবেন সেটা জানাও জরুরি। সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা প্রোগ্রামিং ভাষা ভালো করে বোঝেন। তবে কম্পিউটার সরাসরি প্রোগ্রামিং ভাষা বোঝে না। তাই এক ধরনের অনুবাদকের মাধ্যমে এই প্রোগ্রামিং ভাষাকে কম্পিউটারের ভাষা বাইনারিতে রূপান্তর করা হয়। যে ভাষা কম্পিউটার সহজে বুঝতে পারে। এই প্রোগ্রামিং ভাষা আবার অনেকগুলো। একেক ভাষা একেক জনের জন্য দরকার। প্রোগ্রামিং ভাষার কাজাগুলো কী সেটাও জানতে হবে।
কোন ভাষাটা শিখবেন
জাভা : ১৯৯১ সালে স্মার্ট টেলিভিশনের জন্য জাভার আবির্ভাব। ওরাকলের জাভা এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা। একটা কারণ হলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এবং ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট লেখা শুরু করার জন্য জাভা একটি চমৎকার ভাষা। তবে কেউ যদি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান তাহলে তাকে জাভার পাশাপাশি এইচটিএমএল এবং সিএসএস নামে আরও দুটি ভাষা ভালোভাবে শিখতে হবে।
পাইথন : ১৯৮৯ সালের দিকে শুরু। পাইথন এক শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ভাষা। জাভা স্ক্রিপ্ট থেকে এর পার্থক্য হলো এটি শুধু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাক এন্ডে ব্যবহার করা হয়। তবে পাইথনের শক্তির জায়গায় শুধু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সীমাবদ্ধ নয়। এটি মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্সের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি অনেকটা সাধারণ ভাষার মতো হওয়ায় সহজে যে কেউ শিখতে পারে। ফলে এটি একদিকে এই ভাষার সরলতা অন্যদিকে লার্নিং ও ডেটা সায়েন্সে কার্যকরী। এসব কারণে বিজ্ঞান গবেষক, গণিতবিদ এবং পরিসংখ্যানবিদদের কাছে পাইথন খুবই জনপ্রিয় ভাষা। যারা সাধারণভাবে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ব্যাপারে আগ্রহী এবং অভিজ্ঞ হতে চান তাদের জন্য শক্তিশালী মাধ্যম পাইথন।
পিএইচপি : ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং-এর জন্য সবচেয়ে সাধারণ। কারও কারও হিসাবে ওয়েবের এক-তৃতীয়াংশই চলে পিএইচপিতে। বড় বড় সাইট যেমন ফেসবুক, ইয়াহু বা ওয়ার্ডপ্রেস পিএইচপিতেই চলে। তবে, অনেক প্রোগ্রামারই পিএইচপিকে দেখতে পারেন না। পৃথিবীর ৭৫ ভাগ ওয়েবসাইট পিএইচপি দিয়ে বানানো। এই সময়ের পিএইচপি ফ্রেমওয়ার্ক লারাভাল তার সৌন্দর্যের জন্য জনপ্রিয়। এই ভাষা পাইথনের মতো শুধু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাক এন্ডে ব্যবহার করা হয়। তবে পিএইচপি রাজত্ব শুধু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে। খুব সহজে এবং অল্প সময়ে ওয়েবসাইট কিংবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানানো যায় বলে এই ভাষা স্টার্টআপ প্রজেক্ট এবং ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বানানোর কাজে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তিবাজারে এই ভাষার চাহিদা অনেক।
ভিজ্যুয়্যাল বেসিক : গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের জন্য এটা এখনো টিকে আছে বলে আমার মনে হয়। মাইক্রোসফটের কারণেই এই ভাষার প্রকাশ বলা যায়।
জাভা স্ক্রিপ্ট : এটি কিন্তু জাভা নয়। ওয়েবের জন্য দরকার। তবে, ব্রাউজারকে স্লো করে ফেলা এবং নিরাপত্তার ব্যাপার স্যাপার নিয়ে অনেকেই এটির ব্যাপারে সতর্ক থাকেন।
রুবি : পাইথনের মতো ২৪ বছর বয়সী এই ভাষাটিকেও অনেক ডেভেলপার পছন্দ করেন। কোডিং করা ও পড়া দুটোই সহজ। রেইলস নামে এর একটা ফ্রেমওয়ার্ক আছে যার কারণে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানানো সহজতর। এই ভাষার অফিশিয়াল কারণ হলো এ প্রোগ্রামার’স বেস্ট ফ্রেন্ড।
সি : পুরনো ভাষাগুলোর অন্যতম। ১৯৭০ সালে রিচির হাত দিয়ে শুরু। ১৯৭৮ সালে এই ভাষার কিংবদন্তির ম্যানুয়াল ‘দি সি প্রোগ্রামিং ভাষা’ প্রকাশিত হয়।
সুইফট : অ্যাপলের আইফোনের অ্যাপস বানানোর জন্য এই ভাষা। আইবিএম আর অ্যাপলের কারণে এর মার্কেট শেয়ার বেড়ে চলছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য প্রোগ্রামিং ভাষা ছাড়াও বেশ কিছু জনপ্রিয় ভাষা রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো সি সার্প, সিপ্লাস প্লাস, গো ল্যাং ইত্যাদি। প্রোগ্রামিংয়ের মূল ধারণা প্রতিটি ভাষা প্রায় একই রকমের। তাই কেউ একজন একটি ভাষা ভালোভাবে জানলে তার জন্য পরবর্তী সময়ে অন্য ভাষাগুলো শিখে নেওয়া খুব কঠিন কিছু না। প্রযুক্তিময় এই জীবনে প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সময় আবশ্যক হয়ে যাবে।
