আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫-এর জন্য স্বাগতিক পাকিস্তান সব দলের মধ্যে সবচেয়ে দেরিতে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। যেখানে বাকি সাত দল ১৮ জানুয়ারির মধ্যে দল চূড়ান্ত করেছিল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ৩১ জানুয়ারি। আর দেরির পর ঘোষিত দল নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
দলে ফিরেছেন ফাহিম আশরাফ, খুশদিল শাহ, সৌদ শাকিল ও ফখর জামান—যারা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ওয়ানডে পরিকল্পনায় ছিলেন না। অথচ বাদ পড়েছেন আবদুল্লাহ শফিক, মোহাম্মদ ইরফান খান, সুফিয়ান মুকিম ও সাইম আইয়ুব, যারা গত বছর পাকিস্তানের ওয়ানডে সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
সাইম আইয়ুব চোটের কারণে দলে জায়গা পাননি, তবে বাকি তিনজনের বাদ পড়ার ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম, রশিদ লতিফ ও তানভীর আহমেদ দল নির্বাচনের সমালোচনা করেছেন। আকরামের মতে, স্কোয়াডটি 'অপ্রত্যাশিত', লতিফ এটিকে 'রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত' বলে দাবি করেছেন, আর তানভীর বলছেন, 'এটা তদবিরের ভিত্তিতে গড়া এক তামাশার দল।'
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএলটি২০-এর ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় আকরাম বলেন, 'ফাহিম আশরাফ প্রতিভাবান ক্রিকেটার, আমি তাকে শুভকামনা জানাই। কিন্তু সর্বশেষ ২০ ম্যাচে তার বোলিং গড় ১০০ ও ব্যাটিং গড় মাত্র ৯। খুশদিল শাহর পারফরম্যান্সও ভালো নয়। তাদের জায়গা পাওয়া পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত।'
পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াডে মাত্র একজন স্বীকৃত স্পিনার—আবরার আহমেদ। এ নিয়ে আকরামের প্রশ্ন, 'যেখানে ভারত চারজন স্পিনার রেখেছে, আমরা মাত্র একজনকে দলে নিয়েছি। নির্বাচকেরা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্চয়ই সবকিছু বিবেচনা করেছেন!'
রশিদ লতিফ আরও কড়া ভাষায় বলেছেন, 'এটা রাজনৈতিক বাছাই। ফাহিম আশরাফ এমন কিছু করেননি, যাতে দলে ঢোকার নিশ্চয়তা পেতেন। তার রেকর্ডও আশাব্যঞ্জক নয়।'
তানভীর আহমেদ সরাসরি বলেছেন, 'এই দল সুপারিশের ভিত্তিতে গড়া। আমাদের নির্বাচকরা দলে পক্ষপাত করেছেন, যা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।'
ফাহিম আশরাফ ও খুশদিল শাহ এবার বিপিএলে ভালো খেলেছেন, যা হয়তো নির্বাচকদের নজরে এসেছে। ফরচুন বরিশালের হয়ে ফাহিম ১১ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন, যা বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাট হাতে ২৩১.৮১ স্ট্রাইক রেটে ১০২ রান করেছেন, যেখানে তার ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস ম্যাচ জিতিয়েছিল দলকে।
রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন খুশদিল শাহ। ১০ ম্যাচে ২৯৮ রান করার পাশাপাশি ১৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচকদের মতে, ফাহিম ও খুশদিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাদের দলে ফেরার মূল কারণ। তবে পাকিস্তানের সাবেক খেলোয়াড়দের মতে, এটি কেবল পারফরম্যান্সের কারণে হয়নি, বরং দল নির্বাচনে রাজনৈতিক ও সুপারিশের বড় প্রভাব ছিল।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগে পাকিস্তানের এই দল কতটা কার্যকর প্রমাণিত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নেইমার কি পারবেন মেসি হতে?
নাটকীয়তার ছোঁয়া নিয়ে আবার মুখোমুখি ম্যানসিটি-আর্সেনাল
নির্বাচক হান্নান সরকারের পদত্যাগ