বিপিএলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রস্তুত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াড

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫১ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ—চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে ভালো পারফর্ম করতে হলে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও ফর্মের ধারাবাহিকতা। সেই জায়গা থেকে এবারের বিপিএল ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য প্রস্তুতির সেরা মঞ্চ। ব্যাট হাতে কারা ছিলেন ধারাবাহিক, কে কে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য নিজেকে প্রমাণ করলেন, আর কারা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বিপিএলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণেই।

ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স

টপ অর্ডারে থাকা তানজিদ তামিম বিপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। তিনি ১২ ম্যাচে ৪৮৫ রান করেছেন, গড় ৪৪.০৯ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪১.৮১। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়। আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ ম্যাচে ৩৩৮ রান করেছেন, গড় ২৮.১৭, স্ট্রাইক রেট ১৩০.০০, যা তাকে তালিকার ১০ম স্থানে রেখেছে।

অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ ব্যাট হাতে ৩৫৫ রান করেছেন, গড় ২৭.৩১, স্ট্রাইক রেট ১৩২.৩১। ব্যাটিং তালিকায় তিনি অষ্টম স্থানে ছিলেন। পাশাপাশি বল হাতে ১৩ উইকেট শিকার করেছেন, সেরা বোলিং ফিগার ৩/৬।

মিডল অর্ডারে থাকা তাওহীদ হৃদয় ১৩ ম্যাচে ৩১২ রান করেছেন, গড় ২৬.০০, স্ট্রাইক রেট ১৩০.০০। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৮ ম্যাচে ২০৬ রান করেছেন, গড় ৩৪.৩৩, স্ট্রাইক রেট ১৪৩.০৬।

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ৯ ম্যাচে ১৮৪ রান করেছেন, গড় ২৬.২৯, স্ট্রাইক রেট ১২৭.৭৮। উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলী অনিক ১২ ম্যাচে ২৪১ রান করেছেন, গড় ২৪.১০, স্ট্রাইক রেট ১২৭.৫১।

টপ অর্ডারে থাকা সৌম্য সরকার ৪ ম্যাচে ১০৫ রান করেছেন, গড় ২৬.২৫, স্ট্রাইক রেট ১৩৪.৬২। তবে দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ফরচুন বরিশালের হয়ে ৫ ম্যাচে মাত্র ৫৬ রান করেছেন, গড় ১১.২০, স্ট্রাইক রেট ১১৯.১৫। টিম কম্বিনেশনের কারণে তামিম ইকবাল তাকে বেশি ম্যাচে সুযোগ দেননি।

বোলারদের পারফরম্যান্স

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা তাসকিন আহমেদ এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন। ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছেন, সেরা বোলিং ৭/১৯। তার ইকোনমি ৬.৫০, গড় ১২.০৪— যা তার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতার প্রমাণ।

তানজিম হাসান সাকিব ৯ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়েছেন, সেরা বোলিং ৩/৩৭। তার ইকোনমি ৮.২০, গড় ১৮.১৯।

অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট পেয়েছেন, ইকোনমি ৭.৩৬, গড় ২৪.১৫, সেরা বোলিং ৩/১৬। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট পেয়েছেন, ইকোনমি ৭.২৬, গড় ১৯.৫৪, সেরা বোলিং ৩/১৬।

নতুন প্রতিভা নাহিদ রানা ১২ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি ৮.১৪, গড় ৩৫.০০, সেরা বোলিং ৪/২৭।

বিপিএলের পারফরম্যান্স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কী ভূমিকা রাখবে?

বিপিএলে পারফর্ম করা খেলোয়াড়রা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে পারবেন। তানজিদ, ইমন, হৃদয়রা ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা দেখালে ওপেনিং ও মিডল অর্ডারে শক্ত ভিত পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, তাসকিনের দুর্দান্ত ফর্ম ও মোস্তাফিজ-নাসুমের কার্যকর বোলিং আক্রমণ দলের জন্য বড় ভরসা হতে পারে। তবে অধিনায়ক শান্তর ফর্ম ভাবাচ্ছে, কারণ ব্যাট হাতে তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি।

সব মিলিয়ে, বিপিএলের পারফরম্যান্স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো কিছু করার আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা কতটা কার্যকর হতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত