খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির বাসভবনে তালা না ঝুলিয়েই ফিরলেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে তালা দিতে গিয়ে তালা না ঝুলিয়েই ফেরেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভিসির বাসভবনে তালা দিতে যান শিক্ষার্থীরা। তবে ভবনের ভেতরে থাকা শিক্ষকরা বেরিয়ে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তালা না দিয়েই ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে আরও সাতদিন সময় দেওয়া হয়েছে।

কুয়েট সূত্রে জানা গেছে, ভিসির বাসভবনে তালা দিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আমরা পাঁচ মিনিট সময় দিচ্ছি, ভিসির বাসভবনে কেউ থাকলে বের হয়ে আসুন, এরপর তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে বেশ কয়েকবার হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিসি মাছুদকে আমরা বর্জন করেছি। প্রশাসনের ওপর আমরা আস্থা রাখি না। তারা আমাদের নিরাপত্তা প্রদান করতে পারেনি। এই ভিসিকে আমরা সবাই বর্জন করেছি, তাই ভিসির বাসভবনে কেউ থাকতে পারবে না।

তারা বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি সব শিক্ষার্থী মিলে ভিসির বাসভবনের তালা মেরে দিয়েছিলাম। কিন্তু গত সোমবার রাত ১১টার সময় আমাদের কাছে খবর আসে যে ভিসির বাসভবনের তালা ভাঙা হয়। তার পরপরই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার ভেতরে যেন ভিসির বাসভবন খালি করে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, কুয়েটের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিরাপত্তার স্বার্থে চলে গেছে। তারপরেও আমরা আছি তাই হল খোলা আছে, একাডেমিক কার্যক্রম আমরা বন্ধ রেখেছি।

তবে এমন পরিস্থিতিতে বাসভবনের মধ্যে থাকা কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা তোমাদের ভালো চাই, তোমরাও আমাদের ভালো চাও। আমরা সবাই কুয়েটিয়ান। তোমরা কুয়েটের ভাল চাও আমরাও কুয়েটের ভালো চাই। তাহলে আমরা নিজেদের চাওয়া পাওয়ায় কিভাবে কুয়েটের ভালো হয়। তোমরাও সে চেষ্টা করছো আমরাও সে চেষ্টা করছি। এভাবে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে বেশ কয়েক মিনিট কথোপকথনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনে তালা না লাগিয়ে ফিরে যান।

এদিকে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবন থেকে চলে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ফারুন হোসেন সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন। আর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলার সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে আরো সাতদিন সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি এবং কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম এম এ হাসেমের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায় এই কমিটি গঠন করে তাদের ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। গত রবিবার সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত