সাদা বলের ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কেড়েছে আফগানিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের উত্থান ক্রিকেটবিশ্বে বিস্ময় জাগিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস কিংবদন্তি ডেল স্টেইন মনে করেন, যদি ধৈর্যের জায়গায় উন্নতি করতে পারে, তাহলে আগামী এক দশকের মধ্যে আইসিসির কোনো বড় টুর্নামেন্ট জেতার সামর্থ্য রাখে দলটি।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আফগানিস্তান এখন আর কোনো হালকা প্রতিপক্ষ নয়। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে ছিল তারা। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম স্থানে থেকে আসর শেষ করে দলটি।
পরের বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে আফগানরা। ২০২৪ আসরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তারা জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। যদিও সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পেরে ওঠেনি দলটি।
চলমান আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দারুণ শুরু করেছিল আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাওয়ায় ও বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ চারে উঠতে পারেনি হাশমাতউল্লাহ শাহিদির দল।
আফগানদের স্কিল ও প্রতিভা মুগ্ধ করেছে ক্রিকেটবিশ্বকে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে এখনও একটি ঘাটতি দেখছেন ডেল স্টেইন। প্রোটিয়া গতিতারকার মতে, ধৈর্যের অভাবই আফগানদের বড় সমস্যা, ‘আগে অনেক ক্রিকেটার কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যেত। বা ধৈর্য বাড়ানোর জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলত। এখন সেই ধৈর্যের অভাব দেখা যাচ্ছে। আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। তারা সবকিছু দ্রুত পেতে চায়।’
তিনি যোগ করেন, ‘বোলাররা ভাবে, এই বলেই উইকেট নিতে হবে। তারা ধৈর্য ধরে উইকেট বের করে নিতে পারে না। ব্যাটসম্যানরাও প্রথম ওভার থেকেই ছক্কা মারতে চায়, ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়তে চায় না।’
আফগান ক্রিকেটারদের ধৈর্যের অভাবের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ৬৯৯ আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক স্টেইন, ‘তাদের অনেকেই বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলছে, যা দারুণ ব্যাপার। এতে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে। তবে চার দিনের ক্রিকেটে কিছুটা সময় দিলে তাদের ধৈর্য বাড়বে। কারণ ওয়ানডে ক্রিকেট মূলত টেস্টের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। সেখানে কিছু মুহূর্ত থাকে, যেখানে টি-টোয়েন্টির মতো খেলতে হয়।’
ধৈর্য ধরে খেলতে পারলে আফগানিস্তান বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি। আশাবাদী কণ্ঠে স্টেইন বলেন, ‘যদি ধৈর্য আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরের দশকে নিশ্চিতভাবেই তারা আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারবে।’
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছে আফগানিস্তান। অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলার ছোঁয়া লাগলে হয়তো স্টেইনের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
১৭৯ রানে শেষ ইংল্যান্ড, ম্যাচ শেষের আগেই সেমিতে প্রোটিয়ারা
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সূচি নিয়ে জটিলতা, সমালোচনার মুখে আইসিসি
গোলশূন্য ড্র ম্যাচে পয়েন্ট চান না পিকে