অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ প্রত্যাহার এবং নিজ বিভাগ থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এদিকে বেলা দেড়টার কিছুক্ষণ আগে প্রশাসন ভবনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ পড়তে ভবন থেকে বের হতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনার জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোক্তার হোসেন। পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মো. জাহিদ হোসেনকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি করা হয়। একই সঙ্গে ট্যুরিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদারকে বিভাগীয় সভাপতির রুটিন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আজকের কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা ওই আদেশ প্রত্যাহার করে নিজ বিভাগ থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সভাপতি নিয়োগের দাবি জানান।
বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘অন্য বিভাগের শিক্ষককে আমরা সভাপতি হিসেবে চাই না। যারা আমাদের বিভাগকে ধারণ করে তাদের একজনকেই জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ চাই। আমরা দেখেছি বর্তমান উপাচার্য কীভাবে নিজের ইচ্ছামতো স্নাতক পাস ছাড়াই একজনকে প্রথম শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের বিভাগের সভাপতি কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে নোংরা রাজনীতি আছে, যার শিকার আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।’
দাবি না মানা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিজ বিভাগেই যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। তাহলে কেন অন্য বিভাগের একজন শিক্ষককে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হলো? আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব।’
বার কাউন্সিল পরীক্ষার আবেদন ফি ৩০০ টাকা করার দাবি 