নবীনগরে মনেক ডাকাত গ্রেপ্তার, স্বস্তির পাশাপাশি আছে আতঙ্ক!

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৮:১০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ ১৯ মামলার বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। শনিবার (১৫ মার্চ) মধ্য রাতে উপজেলার বড়িকান্দি মাজার এলাকা থেকে র‍্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জিয়া লতিফুল ইসলামের নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি চৌকস দল তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমান মুঠো ফোনে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের কাছে ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’ খ্যাত মনেক ডাকাত আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন- এমন খবরে একদিকে যেমন স্বস্তি বিরাজ করছে তেমনি আবার জামিনে বের হয়ে এলাকায় পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারে এ আতঙ্কে ভুগছেন পশ্চিমাঞ্চলবাসী।

এলাকার অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক বলেন, যখন যে সরকার আসে সেই সরকারের প্রভাবশালীদের সঙ্গে মনেকের ওঠা-বসা থাকে। তাই বারবার গ্রেপ্তার হলেও মনেক ডাকাতকে বেশিদিন জেলে থাকতে হয় না। এবং দ্রুতই তার জামিন হয়ে যায়।

তবে নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, সম্প্রতি একটি বিয়ে বাড়িতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় বাবা-ছেলেসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধের ঘটনার মামলায় ‘মূল নায়ক’ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার চালান দেওয়া হয়েছে। আশা করি এবার সহসা জেল থেকে সে ছাড়া পাবে না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বড়িকান্দিতে আমার এক আত্মীয় অলি মিয়ার বাড়িতে তার ছেলের বিয়ে চলাকালে পার্শ্ববর্তী নূরজাহানপুরের বাসিন্দা এলাকার কুখ্যাত মনেক ডাকাতের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আচমকা সশস্ত্র এক হামলা চালায়। পরপর কয়েক দফার নারকীয় হামলায় বিয়ে বাড়ি লণ্ডভণ্ড হওয়াসহ বাড়ির বাবা-ছেলেসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুঃখজনক হলেও সত্য ওই মামলার পরও মনেক ডাকাত গত দেড় মাস প্রকাশ্যেই এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। এ সময় মনেক ও তার সশস্ত্র বাহিনীর ভয়ে লোকজন থাকতো সর্বক্ষণ চরম আতঙ্কে।

তবে নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিয়ে বাড়িতে মনেক বাহিনীর তাণ্ডবের পর মনেক ও তার পুরো বাহিনী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। এরপরও পুলিশ এলাকাবাসীর নিরাপত্তার জন্য সেসময় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়েছিল।

ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, চুরি, ডাকাতি, মাদক, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৯ মামলার ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ আসামি এই মনেক ডাকাত। পুলিশ বারবার অভিযান চালিয়েও তাকে এতদিন খুঁজে পায়নি। অবশেষে র‍্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত