ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্র মিলন হোসেনকে অপহরণের ২৫ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকায় অপহরণকারী সেজান আলীর বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে মিলনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সেজানের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। পুলিশ ইতোমধ্যে সেজানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মিলন হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাও ইউনিয়নের চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে। তিনি দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন।
জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলন রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পেছনে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। অপহরণকারীরা ঘটনার দিন রাত ১টায় মিলনের পরিবারকে মোবাইলে অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং পরবর্তীতে তিন দফায় ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। তবে টাকা দেওয়ার পরও মিলনকে জীবিত ফেরত দেওয়া হয়নি।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তদন্তে গতকাল বুধবার রাতে সেজান আলী ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সেজানের বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে মিলনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিলনের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে বিক্ষুব্ধ জনতা সেজানের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজিত জনতার চাপে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
মিলনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অপহরণকারীরা ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও মিলনকে হত্যা করেছে। তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, "মিলনের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকাবাসী সেজানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।’
ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ‘আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু উত্তেজিত জনতার চাপে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।’
ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘অপহরণকারী সেজান আলী ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনা নিয়ে অনেক দিন ধরে তদন্ত চলছিল। প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।’
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
ভারতের পথে বাংলাদেশ দল, হামজাকে ঘিরেই উচ্ছ্বাস
শাহজাদপুরে ৭ সাংবাদিকের ওপরে হামলা