নিজের বিয়ে ভাঙতে গিয়ে কনে পক্ষের মারধরের শিকার বর

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১০:২১ পিএম

কৌশলে নিজের বিয়ে ভাঙার চেষ্টা করতে গিয়ে কনে পক্ষের মারধরের শিকার হয়েছেন শরীফ মাহমুদ (সান) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা। পরে মুচলেকা ও দেনমোহরের ১৮ লাখ টাকার চেক জমা দিয়ে তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। 

শরীফ মাহমুদ (সান) মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বুধবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। শরীফ মাহমুদ ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, নবম শ্রেণির পড়ুয়া এক মেয়ের সঙ্গে শরীফ মাহমুদ সানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি উভয় পরিবার জানতে পেরে এক বছর আগে উভয় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাদের বিয়ের রেজিষ্ট্রি (কাবিন) হয়। এরমধ্যে শরীফ মাহমুদ সান অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

বিষয়টি কনের পরিবার জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। এরপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। মঙ্গলবার ছিল তাদের গায়ে হলুদ। বুধবার বরযাত্রী কনের বাড়িতে যান।

এর আগে শরীফ মাহমুদ তার বিয়ে ভাঙতে বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন খবর প্রশাসনকে জানাতে তার বন্ধুদের সহায়তায় নতুন প্রেমিকাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠান। দুপুরে আত্মীস্বজনসহ অতিথিদের আপ্যায়ন শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরমধ্যে শরীফ মাহমুদ ফোনে তার বিয়ে ভাঙতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিয়ে বাড়িতে যেতে বলেন। কনেপক্ষের লোকজন এমন কথা শুনতে পেয়ে শরীফ মাহমুদকে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে তার শেরওয়ানি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারধর করেন।

ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মাতব্বর এবং উভয় পক্ষের আলোচনায় শরীফ মাহমুদ এমন ঘটনা আর ঘটাবেন না বলে মুচলেকা দেন। শরীফ মাহমুদের বাবা সাইফুল ইসলাম দেনমোহরের পাওনা ১৮ লাখ টাকার চেক দেন বলে জানা গেছে। 

বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মাতব্বররা সন্ধ্যায় কনের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।

এ বিষয়ে শরীফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বিষয় আগে থেকেই জানতেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে জানতে মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত